Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

ভিসা-শুল্কযুদ্ধের ধাক্কায় টাকার দামে রেকর্ড পতন

প্রথমে ভারতীয় পণ্য রপ্তানির উপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা। মার্কিন প্রশাসনের সেই ধাক্কায় টালমাটাল গোটা বাণিজ্য সেক্টর।

ভিসা-শুল্কযুদ্ধের ধাক্কায় টাকার দামে রেকর্ড পতন
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রথমে ভারতীয় পণ্য রপ্তানির উপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা। মার্কিন প্রশাসনের সেই ধাক্কায় টালমাটাল গোটা বাণিজ্য সেক্টর। সেই সঙ্কটের মধ্যেই দ্বিতীয় আঘাত এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধি। বিদেশি কর্মীদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থাগুলিকে বছরে ১ লক্ষ ডলার করে ‘মাশুল’ দিতে হবে! আর এই আঘাতে দিশাহারা প্রধানত তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টর। ডোনাল্ড ট্রাম্পের জোড়া আক্রমণে ভারতের অর্থনীতিই সম্পূর্ণ ব্যাকফুটে। আর দুই আঘাতের জেরে এবার ডলারের নিরীখে টাকার মূল্য সর্বকালীন পতনের সাক্ষী হল। সোমবার দিনভর দফায় দফায় পতন ঘটেছে ভারতীয় মুদ্রার মূল্যের। একসময় তো পূবর্বর্তী রেকর্ড ভেঙে ১ ডলারের দাম প্রায় ৮৮ টাকা ৮০ পয়সার কাছেও পৌঁছে যায়। শেষ পর্যন্ত শেয়ার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় তা এসে স্থিত হয় ৮৮ টাকা ৭৬ পয়সায়।

Advertisement

গোটা এশিয়ার নানাবিধ মুদ্রার মধ্যে টাকার পতন সবথেকে বেশি হয়েছে ২০২৫ সালে। সাড়ে ৩ শতাংশ। পতনের সঙ্গী হয়েছে শেয়ারবাজারও। একসময় এক ধাক্কায় সাড়ে ৩০০ পয়েন্ট কমে যায় শেয়ার বাজার। বিগত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে শেয়ার বাজারে। ট্রাম্পের ভিসা নীতি এবং আমদানি শুল্কের জেরে টাকার গতিপ্রকৃতি যেদিকে অগ্রসর হচ্ছে, খুব শীঘ্রই এক ডলারের মূল্য ৯০ টাকা ছাপিয়ে যাবে। আর সবথেকে যে আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে, সেটি হল, এ‌ই প্রবণতা শুরু হওয়ায় দলে দলে বিদেশি লগ্নিকারীরা তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে নিজেদেক বিনিয়োগ ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করতে শুরু করেছে। আর সেই ধাক্কায় সেনসেক্স এবং নিফটি কম্পমান। কিন্তু ভিসা নীতির জেরে ভারতের শেয়ারবাজার, টাকার মূল্য এতটা টালমাটাল কেন? কারণ, যত দিন যাবে, ততই ভারত থেকে আমেরিকায় কর্মী নিয়োগ কমতে থাকবে। আর তার পরিণতি হল, আমেরিকা থেকে ভারতে ডলারের আগমন কমবে। বছরে আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয়দের মাধ্যমে এদেশে আসে ৩৩০০ কোটি ডলার।
আবার রিজার্ভ ব্যাংকও টাকার পতন প্রতিরোধে কোনও জোরদার আগ্রাসী ব্যবস্থা নিচ্ছে, এমন নয়। সাধারণত রিজার্ভ ব্যাংক ডলার বিক্রির জোগান তুলনামূলকভাবে কম দরে বাড়িয়ে দিলে আর্থিক লেনদেনে কিছুটা সুস্থিতি দেখায়। কিন্তু তাতে টান পড়বে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে। ২০২৫ সালে লাগাতার টাকার পতন এবং শেয়ারাবাজারের ভারসাম্যহীনতার কারণে  এ পর্যন্ত বিদেশি লগ্নিকারীরা ১৫০০ কোটি টাকা প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের বাজার থেকে। আর বিগত ৪৮ ঘণ্টায় এই প্রত্যাহারের সিংহভাগই তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে। সুতরাং সবথেকে বেশি কর্মসংস্থান দিয়ে থাকে যে সেক্টর, সেটিই রীতিমতো খাদের কিনারায় চলে যেতে পারে। আর হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই হওয়ার সম্ভাবনা। ৮০ হাজারের বেশি ভিসা আবেদনও কিন্তু এখনও বিশ বাঁও জলে! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ