মরিনহোর চালে ফের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন রিয়ালের, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যান সিটির বিরুদ্ধে জিতেও খুশি নন এনরিকে
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রোমা: ২০০৪ সালে রোমা, ২০২৩ সালে লিভারপুল, ২০২৪ সালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের পর বুধবার ফের প্রতিপক্ষ রোমা। গত দুই দশকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আসরে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও একাধিক প্রত্যাবর্তনের নজির গড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ইউরোপ সেরার মঞ্চে তারা পিছিয়ে থাকলেই রাতটা নাকি দীর্ঘায়িত হয়। বুধবার তা আরও একবার প্রমাণ করলেন এমবাপেরা। বিপক্ষের ডেরায় ম্যাচের ৮৩ মিনিট পর্যন্ত ১-৩ গোলে পিছিয়ে থেকেও রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়ল হোসে মরিনহোর ছেলেরা। তিন সুপার-সাব এনড্রিক, কার্লোস এস্পি ও আর্দা গুলেরের কাঁধে ভর করে শেষ হাসি হাসল রিয়াল। প্রথম দু’জন জাল কাঁপানোর পাশাপাশি তুরস্কের তরুণ উইঙ্গারের নামের রয়েছে জোড়া অ্যাসিস্ট। ম্যাচে রিয়ালের অপর দুই গোলদাতা কিলিয়ান এমবাপে ও আন্তোনিও রুডিগার। রোমার হয়ে জোড়া লক্ষ্যভেদ ডনয়েল মালানের। এছাড়া স্কোরশিটে নাম তোলেন মার্টেন ডে রুন। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ শেষে রোমা অনুরাগীরা আপশোসের সুরে বলতে থাকেন, ‘ওরা এভাবেই ম্যাচ জেতে।’

Advertisement

২০২২ সালে মরিনহোর হাত ধরেই উয়েফা কনফারেন্স লিগ জিতেছিল রোমা। পরের বছর তারা পৌঁছায় ইউরোপা লিগের ফাইনালে। সেই সুবাদে আবারও ইউরোপিয়ান ফুটবলের মূলস্রোতে ফেরেন ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’। রিয়ালের কোচ হিসাবে প্রাক্তন ক্লাবের ডেরায় শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি পর্তুগিজ কোচের। অ্যাওয়ে ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দলকে সমতায় ফেরান এমবাপে। এরপর রক্ষণের ব্যর্থতায় পরপর দু’গোল হজম করে রিয়াল। ঘরের মাঠে ৩-১ গোলে লিড নেয় রোমা। ঘুরে দাঁড়াতে দ্বিতীয়ার্ধে ভিনিসিয়াস, ডামফ্রিস, ডিয়োমান্ডেকে তুলে এনড্রিকদের আনেন মৌ। আর তাতেই ম্যাচে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্প্যানিশ ক্লাবটি। এই জয়ের যাবতীয় কৃতিত্ব ছেলেদের দিয়েছেন রিয়াল কোচ। মরিনহো বলেন, ‘প্রথমার্ধে দলের খেলার যাবতীয় দায় কোচের। আর দ্বিতীয়ার্ধে পারফরম্যান্সের কৃতিত্ব ফুটবলরাদের। ৩-১ গোলে লিড নেওয়ার পর রোমা ভেবেছিল, ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে মনে রাখা উচিত, রিয়াল জানে কীভাবে প্রত্যাবর্তন করতে হয়।’
দিনের অপর ম্যাচে ম্যাঞ্চেস্টার সিটিকে ৪-২ গোলে হারায় পিএসজি। এতিহাদ স্টেডিয়ামে শুরু থেকে ঝড় তোলে লুই এনরিকের ছেলেরা। প্রথমার্ধেই তিন গোলে লিড নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোলে আর্লিং হালান্ড কিছুটা লড়াই চালালেও, শেষ পর্যন্ত দলের হার বাঁচাতে পারেননি। উপরন্ত শেষলগ্নে ফেরান তোরেস পেনাল্টি মিস না করলে, ম্যান সিটির লজ্জা আরও বাড়ত। ম্যাচে পিএসজির হয়ে জাল কাঁপান যথাক্রমে ডেসিরে দুয়ে, ওসমানে ডেম্বেলে, ভিতিনহা ও মাঘনেস আকলিউচে। অ্যাওয়ে ম্যাচে জিতেও দলের খেলায় খুশি নন পিএসজি কোচ এনরিকে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধে ম্যান সিটি দারুণ লড়াই চালিয়েছে। ওরা প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচটা আমাদের জন্য আরও কঠিন হতে পারত।’
এদিকে, অ্যাওয়ে ম্যাচে লিনজের এএসকের বিরুদ্ধে ৬-৩ ব্যবধানে জিতল লিভারপুল। ম্যাচে দ্য রেডসের হয়ে দুরন্ত হ্যাটট্রিক বার্ডলে বারকোলার। এছাড়া জাল কাঁপান রোনাল্ড আরাহু, জেরেমি ফ্রিমপং ও লুইস কৌমাস।