


নয়াদিল্লি: ভারতে টাকা লেনদেনে কার্যত বিপ্লব ঘটিয়েছে ইউপিআই ব্যবস্থা। চোখের নিমেষে ব্যাংকে টাকা পাঠানো হোক বা দোকানের বিল মেটানো—সবক্ষেত্রেই ভরসা এখন ইউপিআই। খুচরো সমস্যাতেও মুশকিল আসান এই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। কিন্তু এই দ্রুত লেনদেন ব্যবস্থায় এবার কিছু বদল আনতে চাইছে রিজার্ভ ব্যাংক বা আরবিআই। ইউপিআইয়ের মাধ্যমে অনলাইন জালিয়াতি রুখতে ‘ওয়ান আওয়ার ওয়েট’ ব্যবস্থার চিন্তাভাবনা শুরু করেছে দেশের শীর্ষ ব্যাংক। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে অনলাইনে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকার বেশি পাঠালে একঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হলেও, গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে আরবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে।
নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এখন কোনো ব্যক্তি অন্য কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যদি ১০ হাজার টাকার বেশি পাঠান, তাহলে সেই টাকা সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় অ্যাকাউন্টে চলে যাবে না। যিনি টাকা পাঠাচ্ছেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ‘ডেবিট’ হলেও, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ‘ট্রানজাকশন’ সম্পূর্ণ হওয়ার জন্য এক ঘণ্টা অপেক্ষা করবে। প্রেরক ব্যক্তি যদি চান, ওই এক ঘণ্টার মধ্যে লেনদেন বাতিল করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ওই টাকা ফের তাঁর অ্যাকাউন্টে ফিরে আসবে। তবে, দোকানে কিউআর কোড স্ক্যানিংয়ে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে না। কিন্তু আরবিআই কেন এই ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে? সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গিয়েছে, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে জালিয়াতি চলছে। এই নিয়ে সচেতনতা প্রচার চালানো হলেও, অনেকেই প্রতারকদের ফাঁদে পা দিচ্ছে। হ্যাকিংয়ের বদলে গ্রাহকদের ভুল বুঝিয়ে নিজেদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বাধ্য করছে প্রতারকরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, ব্যাংক আধিকারিক সেজে গ্রাহকদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে তারা। তখনই তাড়াহুড়ো করে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন গ্রাহকরা। এক্ষেত্রে ইউপিআই ব্যবস্থার দ্রুততাকে কাজে লাগাচ্ছে প্রতারকরা। একবার টাকা পাঠিয়ে দিলে, তা ফেরত নিয়ে আসা কঠিন। সেই বিষয়টি রুখতেই ‘ওয়ান আওয়ার ওয়েট’ ব্যবস্থা আনার পরিকল্পনা হচ্ছে।
আরবিআইয়ের তরফে এই এক ঘণ্টা সময়কে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। যদি গ্রাহকের মনে হয়, তিনি প্রতারিত হয়েছেন, তাহলে এই এক ঘণ্টার মধ্যে তিনি পুরো বিষয়টি যাচাই করে নিতে পারবেন। প্রয়োজনে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলে নেবেন। যদি দেখা যায় বিষয়টি সন্দেহজনক, তাহলে টাকা ফিরিয়ে নিতে পারবেন গ্রাহক। ব্যাংকও যদি মনে করে, কোনো লেনদেন সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক, তাহলে তারাও পদক্ষেপ নিতে পারবে।