নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ‘ঋতব্রত তৃণমূল বলে কিছু নেই।’ পাঁচমাস আগে যে শিবিরে ছিলেন, বৃহস্পতিবার সেই শিবির সম্পর্কে এমনই মন্তব্য করলেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ। তাঁর আরও দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই ছিলাম, আছি এবং থাকব। নেত্রীর ডাকা কর্মসূচিতে কর্মী হিসাবে হাজির হওয়ার কথাও জানিয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের এই বিধায়ক। ফলে মমতার ‘ঘরে ফেরার’ ডাকের পর রথীনের অবস্থান নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা! হঠাৎ করে রথীনের ‘বেসুরো’ মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে ‘ভাঙন’ প্রকাশ্যে আসে! তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা শিবির তৈরি করেন। রথীনও ছিলেন সেই শিবিরে। বিধানসভার অধ্যক্ষ ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে স্বীকৃতি দেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রথীনের বক্তব্যে স্পষ্ট, ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন সেই শিবিরকে তিনি আলাদা তৃণমূল বলে মানছেন না। রথীনের কথায়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা। অধ্যক্ষ তাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিধায়ক হিসাবে আমাদের কিছু করার নেই। ঋতব্রত তৃণমূল বলে কিছু নেই। তাঁর মতে, ঋতব্রত আলাদা কোনো তৃণমূল শিবিরের নেতা নন। তিনি শুধু বিধানসভার বিরোধী দলনেতা।
গত কয়েকমাসে ঋতব্রতপন্থী বিধায়কদের একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা গেলেও রথীনকে প্রকাশ্যে তেমন সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। এর মধ্যেই কয়েকদিন আগে বিদ্রোহী বিধায়কদের তৃণমূলে ফিরে আসার আহ্বান জানান মমতা। ১৫ দিনের সময়ও বেঁধে দেন দলনেত্রী। তারপরেই আমডাঙার বিধায়ক কাশেম সিদ্দিকি মমতার পাশে থাকার কথা জানান। এবার রথীনের মন্তব্যেও মিলল একই ইঙ্গিত। তবে রথীন ‘ঘরে ফেরার’ কথা মানছেন না। তাঁর বক্তব্য, আমি তো তৃণমূলেই আছি। বাইরে যাইনি। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই ছিলাম, আছি এবং থাকব। তৃণমূলের দেওয়া টিকিটে জিতে বিধায়ক হয়েছি। ফলে দল বা নেত্রীকে ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্ন নেই বলেও জানান তিনি।
মমতা কোনো আন্দোলন বা কর্মসূচি ঘোষণা করলে তাতেও তৃণমূল কর্মী হিসাবে থাকার কথা সদর্পেই জানিয়েছেন রথীন। এনিয়ে বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য রথীনের অবস্থানকে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, উনি কালীঘাটেই যান বা লাটে ওঠা তৃণমূলে যান, রাজ্যের মানুষ ওঁদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। উনি খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর আগে পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। পুরসভায় চাকরি নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে। তার তদন্তও চলছে। এটা মনে রাখা উচিত।
উল্লেখ্য, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের ‘চাণক্য’ বলে একদা পরিচিত ছিলেন রথীন ঘোষ। মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে রথীন ঘোষ প্রথমবার বিধায়ক হন ২০১১ সালে। এরপর থেকে একই কেন্দ্র থেকে টানা চারবারের বিধায়ক তিনি। ২০২৬ এর নির্বাচনে এই জেলায় তৃণমূলের ভরাডুবির মধ্যেও নিজের কেন্দ্রটি অক্ষত রেখেছেন। মমতা সরকারের তৃতীয় মন্ত্রিসভায় ২০২১ সালের ১০ মে থেকে ২০২৬-এর ৯ মে পর্যন্ত রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন রথীন। এছাড়া বাম আমল থেকেই মধ্যমগ্রাম পুরসভার কাউন্সিলার ছিলেন তিনি।