


নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: নিয়ম মেনেই গ্রেপ্তার হয়নি। গলদ ‹অ্যারেস্ট মেমো›তেই! ২০২৪ সালের হাঁসখালি থানায় দায়ের হওয়া একটি পকসো মামলায় তদন্তকারী আধিকারিককে শো-কজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অ্যারেস্ট মেমোতে গলদ কেন তা নিয়ে জেলা পুলিস সুপারকেও তদন্তের নির্দেশ দিলেন বিচারপতি বিভাস পট্টনায়ক। এদিকে, যেহেতু গ্রেপ্তারির বৈধতা নিয়েই রয়েছে প্রশ্ন, তাই আপাতত অভিযুক্তকেও মুক্তি দিতে হচ্ছে উপ সংশোধনাগার থেকে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসখালি থানা এলাকার বাসিন্দা এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগটি ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট। নির্যাতিতার মা অভিযোগপত্রে লেখেন, ২০২২ সালে তাঁর ১৪ বছরের মেয়েকে এক যুবক খুনের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনার দিন নির্যাতিতা নাচের স্কুলে যাচ্ছিল। সেইসময় তাকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে অভিযুক্ত যুবক নিজের এক আত্মীয়ের বাড়ি নিয়ে যায়। তারপর সেখানে তাকে ভয় দেখিয়ে ও খুনের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত। বিষয়টি সেইসময় প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্তু ২০২৪ সালের মাঝামাঝি হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়ের কিছু আপত্তিকর ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। যা নজরে আসে ওই নাবালিকার মা তথা এই মামলার অভিযোগকারিণীর। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে হাঁসখালির বাসিন্দা একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ২০২৪ সালের ১০ আগষ্ট তাকে তোলা হয়েছিল রানাঘাট মহকুমা আদালতে। একটি সূত্রের দাবি, ঘটনার সময় তো বটেই, গ্রেপ্তারির সময়তেও নাকি অভিযুক্ত নাবালক ছিল। তবে সে যা-ই হোক, নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের সময় ‘অ্যারেস্ট মেমো’তে সাক্ষী হিসাবে গ্রেপ্তারির কারণ জানিয়ে সই করানোর কথা অভিযুক্তের পরিবারের কেউ অথবা এলাকার কোনও গণ্যমান্য ব্যক্তির। কিন্তু অদ্ভুতভাবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে মেমোতে এমন কোনও সই ছিল না। ফলে আইনের চোখে সেই গ্রেপ্তারি বৈধ বলে বিবেচিতই নয়। সম্প্রতি অভিযুক্ত পক্ষের পরিবার জামিনের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে। সেখানেই শুনানিতে বিরাট এই গলদ উঠে আসে। ধৃতের পরিবার অথবা এলাকার গণ্যমান্য কাউকে গ্রেপ্তারির কারণ জানিয়ে ‹এরেস্ট মেমোতে› সই করানো হয়নি। যে নিয়ম পুঙ্খানুপুঙ্খ হলে তবেই একটি গ্রেপ্তারিকে আইনিভাবে গ্রেপ্তারি হিসাবে গণ্য করা হয়। তাই বিচারপতি রানাঘাটের পুলিস সুপারকে বিভাগীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয়, কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে এই মামলার তদন্তকারী আধিকারিককেও। একইসঙ্গে অভিযুক্তকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে, রানাঘাট আদালতে বিচারাধীন এই মামলার চার্জশিট আগেই জমা পড়ে গিয়েছে। কেন এই গলদ? এই প্রশ্নের উত্তরে ওই মামলার আধিকারিক বলেন, অর্ডারের কপি আমি হাতে পাইনি। সেই নির্দেশ না পড়ে কিছু বলতে পারব না। যদিও রানাঘাটের পুলিস সুপার আশীষ মৌর্য বলেন, হাইকোর্টের অর্ডার কপি আমরা হাতে পেয়েছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখনই এর বেশিকিছু বলা সম্ভব নয়।