নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের জঙ্গল আপন খেয়ালে ঘুরে বেড়ায় দাঁতাল রামলাল। জঙ্গলের নিয়ম সে দীর্ঘদিন ধরেই মানে না। বন্য হাতির পালের সঙ্গে সে একেবারেই মেশে না। গজরাজ রামলালের জঙ্গলে পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা রয়েছে। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের রামরামা বিটে জঙ্গলের বিশালদেহী অন্য একটি দাঁতাল রামলালের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে। এনিয়ে কংসাবতী নদীর তীরে তুমুল লড়াই হল রামলালের সঙ্গে তার প্রতিযোগীর। দু’জনের লড়াইয়ে ধুলোয় বাতাস ভারী হয়ে উঠে। আর রামলালের রণংদেহী চেহারা দেখে সকলে অবাক হয়ে যান।
বাঁকুড়ার জঙ্গলে সাত বছর আগে রামলাল দলের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় শেষবার লড়াই করেছিল। ঝাড়গ্রামের জঙ্গল এলাকায় বছর খানেক আগে ফিরে আসে। তার পর থেকে বন্য হাতিদের সঙ্গে আর রামলালকে দেখা যায়নি। গ্ৰাম ও শহর এলাকায় মূলত তাকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। বন্য হাতির পাল জেলায় জমির ফসল খাচ্ছে, বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। মানুষকে সামনে পেলে মারছে। হাতি ও মানুষের সংঘাত যেখানে চরম আকার নিয়েছে। রামলাল সেখানে খাবারের জন্য বাড়ি, দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। মানুষজন বিরক্ত করলেও সে চুপচাপ থাকে। সেই শান্ত রামলালের এমন রণংদেহী চেহারা দেখে সকলে বিস্মৃত।
দলছুট রামলালের লড়াই এখন বনবিভাগের আধিকারিকদের কাছেও রীতিমতো চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। রামলাল জঙ্গল এলাকায় রাজকীয় আচরণে ঘুরে বেড়ায়। বন্য হাতিরাও তাকে একপ্রকার এড়িয়ে চলে। জঙ্গলে পুরুষ হাতিরা সাধারণত দলের উপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণের লড়াই করে। সেখানে দল ছেড়ে দেওয়া রামলের সঙ্গে অন্য হাতির লড়াই বনবিভাগের কর্তাদেরও ভাবিয়ে তুলেছে।
নদীতীরের গোয়ালডাঙা গ্ৰামের বাসিন্দা দীপঙ্কর মাহাত বলেন, রামরামা বিটে ১৫ দিন আগে একটি হাতির দল ছিল। বনবিভাগের তরফে দলটিকে ধেরুয়া বিটের আমগোবারা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই দলে একটি পুরুষ হাতি রামরামা বিটে রয়ে গিয়েছিল। রামলালের সঙ্গে ওই হাতির সখ্য হয়েছিল। দু’জনকে একসঙ্গে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতেও দেখা যাচ্ছিল। গতকাল রাত ২টো নাগাদ বৈদ্যার পাল এলাকায় তাদের মধ্যে লড়াই শুরু হয়। এদিন সকালেও লড়াই চলে।
ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের প্রাক্তন আধিকারিক সমীর মজুমদার বলেন, সাধারণত দলের উপর নিয়ন্ত্রণের জন্য পুরুষ হাতিরা লড়াই করে। আবার এলাকা নিয়ন্ত্রণের জন্যে পুরুষ হাতিদের মধ্যে লড়াই বাধে। আবার অনেক সময় কোনো পুরুষ হাতির মধ্যে সখ্য হল, কিন্তু, বিশাল চেহারা, লম্বা দাঁত দেখে অন্য পুরুষ হাতি ইর্ষা বশত আক্রমণ করে। অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই রামলাল দলছুট হয়েও জেলার জঙ্গল এলাকায় তাঁর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পেরেছে। জঙ্গলের মধ্যে সে অবাধ বিচরণ করতে পারে। এক্ষেত্রে এলাকা নিয়ন্ত্রণ বা ইর্ষাজনিত কোনো কারণে এই লড়াই হতে পারে।