নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কাঠামোয় খড় বাঁধা থেকে মাটির প্রলেপ। তারপর ধীরে ধীরে চোখ, মুখের আদল ফুটিয়ে তোলা এবং শেষপর্বে সাজসজ্জা। দুর্গাপুজোর আগে এমনই ব্যস্ততার ছবি এখন ডোমজুড়ের প্রশস্ত পটুয়াপাড়ায়। তবে সেই ব্যস্ততার মধ্যেই গুরুত্ব সহকারে তৈরি হচ্ছে রাজভবনের (বর্তমানে লোকভবন) দুর্গাপ্রতিমা। শিল্পী প্রভাস চিত্রকরের ওয়ার্কশপে এখন দিনরাত এক করে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ।
লোকভবনের প্রতিমার বরাত অবশ্য এবারই প্রথম নয়। গত চার বছর ধরেই প্রভাসবাবুর কর্মশালায় তৈরি হচ্ছে এই দুর্গাপ্রতিমা। প্রায় পাঁচ মাস আগে লোকভবনের তরফে শিল্পীর কাছে প্রতিমা তৈরির বরাত আসে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে তৃতীয়াতে লোকভবনে প্রতিমা পৌঁছে দেওয়ার কথা। ফলে হাতে সময় কম থাকায় এখন ওয়ার্কশপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রভাসবাবু বলেন, লোকভবনের মতো ঐতিহ্যবাহী জায়গার জন্য দুর্গাপ্রতিমা তৈরির সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে শুধু আনন্দের নয়, আবেগেরও। পুজোর সময় লোকভবন থেকেও আমন্ত্রণ পান তিনি। ফলে প্রতি বছর এই পুজোকে ঘিরে রয়েছে তাঁর আলাদা অনুভূতি।
প্রশস্ত পটুয়াপাড়ার অন্যান্য কর্মশালায় এখন একই ছবি। কোথাও প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ চলছে, কোথাও মাটির প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। আবার কোনো কোনো ঘরে চলছে রং ও সাজসজ্জার কাজ। সাধারণ প্রতিমার পাশাপাশি লোকভবনের প্রতিমাকে ঘিরে শিল্পীদের ব্যস্ততা খানিকটা আলাদা। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিখুঁতভাবে কাজ শেষ করাই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য। ডোমজুড়ের পটুয়াপাড়ায় তৈরি হয়ে কলকাতার লোকভবনে পৌঁছাবে প্রতিমা। তাই একদিকে যেমন পুজোর মরশুমে শিল্পীদের রোজগারের ব্যস্ততা, তেমনই বছরের পর বছর ধরে চলে আসা মৃৎশিল্পের ঐতিহ্যের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এই কাজ।