Bartaman Logo
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টির জেরে ফুল চাষে ক্ষতি, পুজোর মুখে বিপাকে পানাগড়ের কসবা মানার চাষিরা

বিরামহীন বৃষ্টির জেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পানাগড়ের নিকটবর্তী কসবা মানা এলাকায় গাঁদা ফুলের চাষিরা

বৃষ্টির জেরে ফুল চাষে ক্ষতি, পুজোর মুখে বিপাকে পানাগড়ের কসবা মানার চাষিরা
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: বিরামহীন বৃষ্টির জেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পানাগড়ের নিকটবর্তী কসবা মানা এলাকায় গাঁদা ফুলের চাষিরা। ফুল গাছের গোড়ায় জল দাঁড়িয়ে গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে লাভ তো দূরের কথা, খরচের টাকাও উঠবে কিনা, তা নিয়েই আপাতত রাতের ঘুম উড়েছে ফুলচাষিদের।

Advertisement

শীতকালীন ফুল হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে সারা বছরই গাঁদা ফুলের চাহিদা থাকে। কসবা মানা এলাকায় দামোদর নদের ধারে বছরের বেশির ভাগ সময়েই গাঁদা ফুলের চাষ হয়। অন্যান্য খাদ্যশস্যের পাশাপাশি এই ফুলের চাষ করে দু’পয়সা আয়ের মুখ দেখেন এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু বেশ কয়েক দফায় বৃষ্টির দাপটে এমনিতেই ফুল চাষিদের মনে আশঙ্কার মেঘ তৈরি করেছিল। তার সঙ্গে কয়েকদিন আগে দামোদর নদের জল বেড়ে এলাকার অনেক জমি ডুবে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে ফুল চাষিদের। তাঁরা জানান, ভারী বৃষ্টি গাঁদা ফুল চাষের জন্য অনুকূল নয়। বৃষ্টির জল গাঁদা ফুলের পাপড়ির ভিতরে ঢুকে যায়। ফলে ফুল দ্রুত পচে যায়। স্থানীয় চাষি কাঞ্চন মন্ডল বলেন, বিশ্বকর্মা পুজোর মরসুমে মাঠের ফুল মাঠেই নষ্ট হল। হঠাৎ করে এত বৃষ্টিতে গোড়া থেকে মাটি সরে গিয়েছে। অধিকাংশ গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই অনেকেরই মাঠ থেকে ফুল তুলে বিক্রি করারও উপায় নেই বললেই চলে। বিশ্বকর্মা পুজোয় এবারে লাভ হয়নি। ফের নিম্নচাপ হচ্ছে। ফুলের দাম চড়া হবে।
চাষিরা জানান, লাল, হলুদ গাঁদার চাষই বেশি হয় এই এলাকায়। তাছাড়া চেরি গাঁদার চাষও হয়। গাছের যত্ন প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, ফুলে যাতে দাগ না আসে, সেজন্য কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। শক্তভাবে ফুল ধরে থাকার জন্য আলাদা ওষুধ রয়েছে। এক বিঘা জমিতে ওষুধ, জমি তৈরি, শ্রমিক সবমিলিয়ে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে এবার ভারী বৃষ্টির জন্য ফুলের ফলনও কমে গিয়েছে। ফুল চাষি রাজরূপ চৌধুরী বলেন, এখন সারা বছরই গাঁদা ফুলের বিক্রি হয়। তবে পুজোর সময় চাহিদা বেশি থাকে। বিশ্বকর্মা পুজোয় অধিকাংশ চাষিই লাভের মুখ দেখেন। কিন্তু এবারে পরিস্থিতি আলাদা। লাভ তো দূরের কথা কীভাবে চাষের খরচ উঠল না। দুর্গা পুজোয় কী হবে সেটাই এখন চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। মাঠে যে ফুল রয়েছে তারও উপযুক্ত দাম পাওয়া যাবে না বলেই আশঙ্কা চাষিদের। কারণ ফুলের পাপড়িতে দাগ এসে যাবে।
এখানে বাড়ির মহিলারা মালা গাঁথার কাজ করেন। প্রায় দু’ফুট লম্বা কুড়িটি মালা নিয়ে হয় এক গোছা। চলতি কথায় তাকে এক কুড়ি বলা হয়। এক বিঘা জমিতে এরকম কুড়ির গোছা ১১৫-১২০টি পর্যন্ত হতে পারে। পানাগড়ের বাসিন্দা নির্মল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ফুল না থাকলে পুজো হবে না। ফুলের যোগানে ঘটতি হলে পুজো উদোক্তাদের খরচ একলপ্তে অনেকটাই বেড়ে যাবে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ