


পিনাকী ধোলে, সাঁইথিয়া: সময়ের সঙ্গে অনেককিছু বদলেছে। কিন্তু সাঁইথিয়া শহরের যানজটের অভিশাপ ঘুচল না। একদা যে রেল ওভারব্রিজ ছিল শহরের লাইফলাইন, আজ সেটিই হয়ে উঠেছে বীরভূমের ‘বাণিজ্য নগরী’ সাঁইথিয়ার ব্যবসার প্রধান অন্তরায়। কয়েক বছর আগে রেলের তরফে পুরনো সেতুটি ভেঙে ফেলার পর আধুনিক ও চওড়া ওভারব্রিজ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই কাজ আজও বিশবাঁও জলে। রেল কর্তৃপক্ষের এই চরম উদাসীনতায় এখন নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় শহরবাসীর। বীরভূমের এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য নগরীকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কার্যত ‘বিমাতা’র চোখে দেখছে তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার বলে দাবি শহরের বাসিন্দাদের। রেলসেতুই এবার ভোটে গেরুয়া শিবিরের গলার কাঁটা, মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সাঁইথিয়া মানেই মহাজনপট্টি, তেলকল, হিমঘর আর বড় আড়তদারদের ব্যস্ততা। সাঁইথিয়ার বুক চিরে চলে গিয়েছে হাওড়া-রামপুরহাট রেলপথ। তারসঙ্গে অণ্ডাল-সাঁইথিয়া রেলপথও মিশেছে। রেললাইনের একপাশে থানা, হাসপাতাল, একাধিক স্কুল-কলেজ, মহাজনপট্টি থেকে বিখ্যাত নন্দিকেশ্বরী মন্দির রয়েছে। অন্যপাশে পুরসভা ভবন, বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন থেকে যাবতীয় পাইকারি দোকান, আড়ত, তেলকল, হিমঘর রয়েছে। এই দুই অংশকে জুড়ে রেখেছিল রেল ওভারব্রিজটি। সেটি ভেঙে ফেলার পর থেকেই শহরের ব্যবসায়িক কাঠামোয় ধস নেমেছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ, সেতুটি চওড়া করার নাম করে ভাঙা হল ঠিকই, কিন্তু নতুন সেতু কবে হবে তার কোনো দিশা নেই। বাইরের ট্রাকচালকরা জিনিসপত্র নিয়ে আসতে চাইছেন না। ব্যবসা মার খাচ্ছে। পুরসভার চেয়ারম্যান বিপ্লব দত্ত বলেন, এককালে বাংলা, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের সংযোগকারী বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল সাঁইথিয়া। কিন্তু আজ সেই ঐতিহ্যের কোমর ভেঙে দিয়েছে রেল।
বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, শহরের পূর্ব-পশ্চিমের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল শতাব্দীপ্রাচীন রেলসেতুটি। তবে, গত দেড়-দু’দশক ধরে ওই সেতুটিই শহরের যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। কারণ, শহরের দৈনন্দিন ভিড়ের তুলনায় সেতুটি সংকীর্ণ ছিল। সেতুর সম্প্রসারণ চেয়ে শুরু হয় আন্দোলন। ২০১৫-’১৬ সালের রেল বাজেটে ঘটা করে এই সেতুর অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্র। সার্ভে থেকে নকশা, সবটাই সারা হয়েছিল ঢাকঢোল পিটিয়ে। দাবি ছিল, চওড়া আধুনিক সেতু তৈরি হবে। যেখানে তিনটি গাড়ি একসঙ্গে যাতায়াত করতে পারবে। দৈনন্দিন ব্যবসার কাজে সাঁইথিয়ায় আসা সুমন দাস, রমজান আলিরা বলেন, দীর্ঘ গড়িমসির পর কয়েক বছর আগে পুরনো সেতুটি ভেঙে ফেলে রেল। কিন্তু তারপর থেকেই যেন রেল কর্তৃপক্ষ দায় ঝেড়ে ফেলেছে। সেতু নির্মাণের কাজ কবে হবে তা জানেন না কেউ। এরফলে প্রত্যেকে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রেলের এক কর্তা বলেন, সব বাধা কাটিয়ে দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
তৃণমূল প্রার্থী নীলাবতী সাহা বলেন, রেলের এই উদাসীনতা আসলে দিল্লির বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। তৃণমূলের শহর সভাপতি দেবাশিস সাহা বলেন, রাজ্য সরকার সহযোগিতার হাত বাড়ালেও রেল তথা কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছার অভাবেই কাজ থমকে আছে। আমরা এনিয়ে রেলকে বহু চিঠি লিখেছি। কিন্তু বাস্তবে কিছুই কাজ হয়নি। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, তৃণমূল কেবল নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে কেন্দ্রের দিকে আঙুল তুলছে। আমরা রেল দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। দ্রুত কাজ শুরুর চেষ্টা চলছে।