নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একদিকে যেমন নয়াদিল্লির সংসদ মার্গ থানায় জমা পড়ল তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর অভিযোগ, অন্যদিকে জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যূত করার প্রক্রিয়ার দাবিতে শীঘ্রই লোকসভা এবং রাজ্যসভায় ফের বিরোধীদের দিচ্ছে চিঠি। বৃহস্পতিবার বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দলগুলি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই মধ্যে এদিন বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলন করে জ্ঞানেশ কুমার এবং মোদি-শাহর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন রাহুল গান্ধী। আজ রাস্তায়ও নামছে কংগ্রেস। সব রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে হবে প্রদেশ কংগ্রেসের বিক্ষোভ। দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারি।
এদিন রাহুলের অভিযোগ, রিগিং করে বিজেপিকে লাগাতার জিততে সাহায্য করছেন জ্ঞানেশ কুমার। তিনি দ্রেশদ্রোহী, ষড়যন্ত্রকারী। তাই মুখ্য নির্বাচন কমিশনের এখনই সরে যাওয়া উচিত। তাঁর উচিত রাজসাক্ষী হয়ে যাওয়া। একইসঙ্গে লোকসভার বিরোধী দলনেতার দাবি, প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহর বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া দরকার। জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে বসাতে নির্বাচন বৈঠকে আমি প্রবল আপত্তি করেছিলাম। কিন্তু তাঁকেই বেছে নেন প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ। আর এখন প্রমাণ হচ্ছে, সাংবিধানিক পদে বসে কীভাবে ভোট চুরি হচ্ছে।
রাহুলের দাবি, প্রথমে ভোট চুরি হচ্ছে। তারপর আইন চুরি। আর তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান চুরি। এভাবে চলতে পারে না। সভা হোক বা সংসদ অমিত শাহ কোন শক্তিতে বলেন, আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছর দেশে রাজ করবে বিজেপি। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধেও প্রতিষ্ঠান বিরোধী প্রভাব পড়েছে। রাজীব গান্ধী, অটলবিহারী বাজপেয়ি, মনমোহন সিং....প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই হয়েছে। অথচ নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সেটা গায়েব! কী করে? কেন মানুষের রায়ের প্রকৃত প্রতিফলন হচ্ছে না? কেন না জ্ঞানেশ কুমার ভোট চুরি করছেন। আর অমিত শাহ তাঁকে রক্ষা করছেন। তাঁকে দেওয়া হয়েছে রক্ষাকবচ। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের নির্বাচনের ক্ষেত্রে ২০২৩ সালে নতুন আইন আনে মোদি সরকার। নির্বাচন কমিটি থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দিয়ে সেই জায়গায় আনা হয় প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত কোনো মন্ত্রী। আর থাকবেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এইসঙ্গে ‘দ্য চিফ ইলেকশন কমিশনার অ্যান্ড আদার ইলেকশন কমিশনারস (অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কন্ডিশনস অব সার্ভিস অ্যান্ড টার্ম অব অফিস)’ আইনের ১৬ ধারায় দেওয়া হয় রক্ষাকবচ। সেটি হল, পদে থাকুন বা অবসর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা কমিশনারের কাজের ওপর কোনো সিভিল অথবা ক্রিমিনাল কেস করা যাবে না। কোনো আদালত তা শুনবে না। ওয়াকিবহাল মহলে তাই উঠছে প্রশ্ন। কারণ, মোদি সরকার নিজেই এমন আইন চাইছে, যেখানে পাঁচ বছরের বেশি সাজা হতে পারে এমন কোনো মামলায় অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী যদি একটানা ৩০ দিন জেলে থাকেন, তাহলে ৩১ দিনের মাথায় তাঁকে পদ খোয়াতে হবে। অর্থাৎ তাঁদেরও তেমন কোনো রক্ষাকবচ নেই। তাহলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা কমিশনারদের কেন এই নজিরবিহীন রক্ষাকবচ। যা দেশের রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপাল বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরাও অবসরর নেওয়ার পর পান না? নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে বক্তব্য রাখছেন রাহুল গান্ধী।