সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি; রিতু, সমর্থ, অর্জুন, ধর্মেন্দ্র বা আদিরা। এঁরা প্রত্যেকেই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি। ঠিক যেমন ছিলেন সাহিল। নিটের প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে গত ২০ জুলাই যন্তরমন্তরে পুলিশের পেলেট গানে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিলেন সাহিল। তাঁকে সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির করে অমিত শাহর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন দিল্লি পুলিশকে সমালোচনার শূলে চড়িয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। বুধবারও একইভাবে ১০ জনপথের বাইরে হাজির করলেন রিতু, অর্জুনদের মতো জেন জি’দের। মোদি-শাহকে ছুড়লেন চ্যালেঞ্জ। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘জেন জি’কে ভুলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়তে যাবেন না। বিপদে পড়তে হবে। মনে রাখবেন, এরা কিন্তু বাঘের বাচ্চা! সব শের-শেরনি।’
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে হটাতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বিরোধীরা। যোগ দিয়েছে জেন জি এবং নাগরিক সমাজও। গত ২ অক্টোবর থেকে লাগাতার দেশজুড়ে চলছে কেন্দ্র বিরোধী বিক্ষোভ। কখনো বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’ নামছেন রাস্তায়। কখনো ককরোচ জনতা পার্টি বা বাম-ডান ছাত্র যুব সংগঠনের লড়াকুরা। নাজেহাল দিল্লি পুলিশ। প্রায় ৩০ হাজার পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান নামিয়েও থামানো যাচ্ছে না। বিক্ষোভকারীরা জানিয়ে দিয়েছে, ‘যাবেও না।’ এদিন রাহুলেরও বার্তা, ‘ছাত্র-যুবদের বলছি, যেখানেই পুলিশ অত্যাচার করবে, ভিডিও বানাও। তথ্য-প্রমাণ হিসাবে হাতিয়ার করব।’ এদিন সাংবাদিকদের সামনে রিতু, সমর্থরা বর্ণনা দিলেন কীভাবে তাঁদের সঙ্গে পুলিশ বর্বর আচরণ করছে। মেরে বাস-প্রিজন ভ্যানে তুলেছে। মাটিতে ফেলে, নাকে-মুখে ঘুসি মেরেছে। এভাবে পুলিশ নিজেদের হতাশা উগরেছে বলেই দাবি তরুণদের। এমনকি গোপনাঙ্গেও আঘাত করেছে বলে অভিযোগ। মারতে মারতে পুলিশ বলেছে, ‘তুম লোগ হামারা নিন্দ হারাম কর দি। নেতা বননা হ্যায়? খাও মার। দেখি কত রাহুল গান্ধী, নেহা বোরা বাঁচাতে আসে।’ প্রতিবাদী ওই জেন জি’র প্রতিনিধিদের এও দাবি, বিক্ষোভকারী ছাত্র-যুব তো বটেই, কনট প্লেসে পথচারী কয়েকজন মুসলিমকেও অহেতুক পাকড়াও করে পুলিশ প্রবল হেনস্তা করেছে। যদিও জেন জি’র প্রতিনিধিরা জানিয়ে দিয়েছে, পুলিশের হুমকিতে আমরা ডরাই না। সেই সুরে রাহুলও তোপ দেগেছেন মোদি-শাহকে। বলেছেন, ‘ভোটচুরির বিরুদ্ধে আন্দোলনে তরুণদের কণ্ঠে এখন গোটা হিন্দুস্তান কথা বলছে। মোদি সরকার সেই কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ শুনে রাখুন, ভুলেও দেশের এই ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বরের সামনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন না। সরকারকো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে রাহুলের মন্তব্য, ‘কেউ রেহাই পাবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং যেসব পুলিশকর্মী ছাত্রদের উপর হামলা চালিয়েছেন—প্রত্যেকের শাস্তি নিশ্চিত করে ছাড়ব। প্রতিবাদ চলবে।’
সেই আঁচ মিলেছে বুধবারও। একদিকে বাম ছাত্র-যুব, অন্যদিকে যুব কংগ্রেস। তরুণদলের বিক্ষোভে ফের নাজেহাল হয়েছে দিল্লি পুলিশ। যন্তরমন্তরে নিষেধাজ্ঞা জারির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠল তারা। ঘোষণা করল, যন্তরমন্তরই যাব। কে আটকায় দেখি। প্যাটেল চক মেট্রোর রাস্তা পেরলেই যন্তরমন্তর। সেখান থেকেই পদযাত্রা শুরু করে যুব কংগ্রেস। লোহার ব্যারিকেডে তাদের থমকে দেয় পুলিশ। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। জামা ছিঁড়ে যায় যুব কংগ্রেস সভাপতি উদয় ভানুর। একইভাবে ফিরোজ শাহ রোড থেকে যন্তরমন্তর চলো অভিযানে নামে বাম ছাত্র-যুব সংগঠন। সেখানেও পুলিশের সঙ্গে বেঁধে যায় ধুন্ধুমার। রাস্তায় শুয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। স্লোগান তোলেন, ‘যত আটকাবে, তত জোরদার হবে প্রতিবাদ।’ জেন জি’র জোশ জারি রাখতে রাহুলও জানান, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আমাদের অধিকার। কাউকে ছিনিয়ে নিতে দেব না।’



