বিক্ষোভ মিছিলে অন্তঃসত্ত্বা সাংবাদিককে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ রাহুলের বিরুদ্ধে, বিজেপির রাজনৈতিক প্রচার, তোপ কংগ্রেসের
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: মহিলা পুলিশকর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আগেই উঠেছিল। এবার অন্তঃসত্ত্বা সাংবাদিককে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। সোমবারের বিক্ষোভ মিছিলের এই ঘটনা নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে বিজেপি। 

Advertisement

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা সহ একাধিক ইস্যুতে রাজধানীতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বিরোধীরা। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিল করে বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’। সূত্রের খবর, বিক্ষোভ চলাকালীন শীর্ষ আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক রিচা পরাসর। তাঁর অভিযোগ, ‘আমার কাঁধ ধরে জোরে টান দেন রাহুল গান্ধী। এরপর নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কায় সিঁড়িতে মুখ থুবড়ে পড়ে যাই।’ কংগ্রেস নেতার ধাক্কায় সাংবাদিকের সঙ্গে থাকা ক্যামেরা পার্সনও পড়ে যান বলে অভিযোগ। বর্তমানে দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভরতি তিনমাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই সাংবাদিক। রিচা বলেন, ‘চিৎকার করে ধাক্কা না দেওয়ার আরজি জানিয়েছিলাম। রাহুল গান্ধী আমায় ধাক্কা মারেন। সিঁড়িতে পড়ে গিয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও ওঁর লোকজন স্লোগান দিতে ব্যস্ত ছিল।’ এখানেই না থেমে তিনি বলেন, ‘প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা আমায় এক্স-রে করাতে বলেন। তখনই নার্সদের জানাই যে আমি অন্তঃসত্ত্বা।’ হাসপাতালের চেয়ারপার্সন ডঃ অজয় স্বরূপ অবশ্য জানিয়েছেন, রিচা বর্তমানে বিপন্মুক্ত।
মঙ্গলবার বহু বিজেপি নেতা রিচার সঙ্গে দেখা করেন। দিল্লি বিজেপির সহ সভাপতি রাজেশ ভাটিয়া বলেন, ‘হাসপাতালে যেতেই সাহায্যের আরজি জানান নিগৃহীতার বোন। স্থানীয় বিধায়ক উমং বাজাজকে বিষয়টি জানাই। উনি সঙ্গে সঙ্গে চলে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওই মহিলার আল্ট্রাসাউন্ড ও এক্স-রে করানো হয়।’ ঘটনায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি। লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে ‘গুন্ডা’ আখ্যা দিয়ে এক্স হ্যান্ডলে তাঁর তোপ, ‘ওই মহিলা সাংবাদিকের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। কোনো কংগ্রেস কর্মী সাহায্য করেননি। উলটে ওই মহিলাকে নিয়ে কুৎসা করতে থাকেন।’ যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাত শিবির। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রচারের স্বার্থে এই ঘটনাকে ব্যবহার করছে পদ্ম শিবির। কংগ্রেস নেত্রী অলকা লম্বার বক্তব্য, ‘ওই সাংবাদিক দাবি করেছেন, দুপুর ৩টে থেকে ৪টে নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। অথচ উনি হাসাপাতালে যান রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বিক্ষোভে শামিল হলে ঝুঁকি থাকবেই। প্রচার পেতেই বিজেপি বিধায়কের অফিসের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সাংবাদিকের বোন। মহিলার এক্স-রে করানো হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বাদের ক্ষেত্রে সাধারণত এমনটা হয় না।’ বিজেপিকে ‘নির্লজ্জ’ আখ্যা দিয়ে অলকার তোপ, ‘আসলে বিজেপির ভৃত্যদের এক্স-রে ও ময়নাতদন্ত করানো উচিত।’