মহালয়া উপলক্ষে মহিষাসুরমর্দিনী শুনতে শিল্পাঞ্চলে রেডিও বিক্রি
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: স্মার্টফোন ও এআইয়ের যুগেও নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে শতাব্দীপ্রাচীন রেডিও। শুধু অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই নয়, মহালয়ার আগে শিল্পাঞ্চলে নতুন রেডিও বিক্রি হয়েছে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনী শুনতে যে রেডিওর বিকল্প নেই, মানছে জেন-জি, জেন আলফা প্রজন্মও।

Advertisement

দুর্গাপুরে বেনাচিতির সবজি মার্কেটের পাশে রয়েছে রেডিও সারানোর দোকান। সেখানে নিজের পছন্দের রেডিও সারিয়ে নিচ্ছিলেন বৃদ্ধা আরতি মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমাদের ছেলেবেলা থেকে মহালয়ার ভোরে রেডিওতে মহিষাসুরমর্দিনী শুনে আসছি। সেই অভ্যাস আজও ছাড়তে পারিনি। অন্য সময় রেডিও খুব একটা শোনা হয় না। কিন্তু মহালয়ার ভোরে রেডিও লাগবেই। ইনডাকশন সারাতে এসেছিলেন ব্যাঙ্কে কর্মরত যুবক প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃদ্ধার কথায় তিনি বেশ উদ্বুদ্ধ হলেন। রেডিওর কত দাম, দোকানদারের কাছে খোঁজও নিলেন তিনি। 
মহালয়ার আগে আসানসোলেও রেডিও সারানোর দোকানে ভিড়। ব্যবসায়ী দেবেশ সিং বলেন, আগের মতো বাজার না থাকলেও রেডিও হারিয়ে যায়নি। বিশেষ করে মহালয়ার আগে আমরা টের পাই, কত মানুষ বাড়িতে রেডিও সযত্নে রেখে দিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু পুরনো রেডিও সারাই নয়, নতুন রেডিও বিক্রি হচ্ছে। দোকানেই ছিলেন অশীতিপর বৃদ্ধ রুদ্রপ্রসাদ সামন্ত। তিনি বলেন, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠের যেমন কোনো বিকল্প নেই, তেমনই তাঁর কণ্ঠ রেডিওতে শোনারও কোনো বিকল্প নেই। এই স্বাদ যে পায়নি তাঁর বাঙালিয়ানা বৃথা। 
দুর্গাপুরের রেডিও বিক্রেতা মনোকুমার প্রসাদ বলেন, রেডিও বিক্রি হচ্ছে। নামী সংস্থাগুলি নতুন নতুন মডেলের রেডিও তৈরি করছে। আমার এখানেও এবছর অনেক রেডিও বিক্রি হয়েছে। অনেকে এখন পুরনো রেডিও সারিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সারা বছর রেডিও শোনেন দুর্গাপুরের পান বিক্রেতা সুবোধ চৌধুরী। তিনি বলেন, টিভি মোবাইল যতই আসুক, রেডিওতে গান শোনা থেকে নানা ধরনের অনুষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই। কাজ করতে করতে রেডিও শোনা যায়। মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলা না শুনলে পুজো এল বলে মনে হয় না।