নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: জীবনের প্রান্তলগ্নে এসে একাকী জীবনে আর দশজনের মতোই উঁকি দিয়েছিল কলেজ জীবনের কথা। ছাত্র পরিষদের একদা তরুণতুর্কি ছাত্রনেতা খুঁজে পেতে চেয়েছিলেন পুরানো সহপাঠী, সহযোগীদের। কিন্তু চাই বললেই তো মিলে যায় না! অর্ধশতাব্দী গড়িয়ে গিয়েছে যে! উত্তরপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের পাশে নিজের বাড়িতে অশক্ত শরীর নিয়ে বসে থাকতেন বছর তিয়াত্তরের সত্যজিৎ সরকার। নিরন্তর উপায় খুঁজতেন অতীতকে ফিরে পাওয়ার। তারপর বাস্তব জীবনে হয়েছে এক রূপকথা। তাতেই মিলে গিয়েছে এক নয়, দু’জন কলেজ জীবনের সঙ্গী।
বহু বছর পরে ‘সত্যদা’কে খুঁজে পেয়ে সেই সঙ্গীরাও হয়েছেন আপ্লুত। আর আনন্দাশ্রু ‘দাদা’র শিথিল ত্বক ভিজিয়েছে। সঙ্গীরা যেখানে বলেছেন ‘সত্যদা’র দুর্দান্ত জীবনের কথা, সেখানে ‘সত্যদা’র গলায় শুধুই হ্যাম রেডিয়ো। বলেন, পশ্চিমবঙ্গ রেডিয়ো ক্লাবই আমার স্বপ্নপূরণ করেছে। ৫০-৫৫ বছরের অতীত খুঁড়ে তারাই আমার পরিচিত, সহযোগীদের খুঁজে দিয়েছে। সে কী আজকের কথা! কোনো এককালে হাওড়ার লালবাবা কলেজের সঙ্গীদের খোঁজার কথা বলেছিলাম। দিন দু’য়েক আগে যখন আশিস আর তাঁর দিদি সর্বাণীর খোঁজ পেলাম, তখন মনে হয়েছিল, এমনও হয়। আশিসের সঙ্গে কথা হয়েছে। জীবনের এক বড়ো প্রাপ্তির সুখ হচ্ছে পড়ন্ত বয়সে এসে। আবারও এক ‘হারানিধি’কে খুঁজে দিয়ে এক ভিন্নতর সুখ পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ রেডিয়ো ক্লাবের সদস্যরাও। তাঁদের সম্পাদক অম্বরীশ নাগ বিশ্বাসের গলা ধরে আসে কথা বলতে গিয়ে। বলেন, দু’জন হারানো মানুষ যখন পরস্পরের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন, সে এক অদ্ভুত অনুভূতি।
গল্পটা তাহলে কি? অম্বরীশবাবু বলেন, সত্যজিৎবাবু আমাদের খোঁজ পেয়েছিলেন সামাজিক মাধ্যমে। জানিয়েছিলেন, তাঁর কলেজ জীবনের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে খুঁজে দিতে হবে। বহু বছর তাঁদের কোনো সন্ধান পাননি তিনি। বলেছিলেন, লালবাবা কলেজের সর্বাণীদেবী আর তাঁর ভাই আশিস ঘোষের কথা। বহু খুঁজে আমরা কলকাতার টবিন রোড থেকে দু’জনকে খুঁজে পাই।
কার্যত ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে আসা দু’জন মানুষের মধ্যে তখন দীর্ঘ আলাপ। আশিসবাবু আর সত্যজিৎবাবুর দীর্ঘ আলাপে উঠে এসেছিল বাংলার এক অস্থির সময়ের কথা। সালটা ১৯৭২। সেই সময় লালবাবা কলেজে ছাত্র পরিষদ করতেন সত্যজিৎ। সেই সুবাদেই আলাপ আশিস ও তাঁর দিদির সঙ্গে। তাঁদের পড়াশোনায় বিস্তর সাহায্য করেছিলেন তদানীন্তন ছাত্রনেতা। তারপর সময়ের বাঁকে হারিয়ে গিয়েছে সেসব দিন। একদা সেকেন্ড ডিভিশন ফুটবল খেলোয়াড় সত্যজিৎ রেলের চাকরি থেকে অবসর নিয়ে উত্তরপাড়ায় থিতু হন।



