লখনউ, ২৩ অক্টোবর: দুর্গাপুজোর আনন্দমুখর পরিবেশে ভক্তদের মধ্যে বিলি করা হয়েছিল চরণামৃত। কিন্তু সেই চরণামৃত গ্রহণের পরেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার একটি গ্রামে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ল একটি গরুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। সন্দেহ করা হচ্ছে, গরুটিকে কোনও পথকুকুর কামড়েছিল এবং ওই গরুর দুধ দিয়ে তৈরি চরণামৃতই খেয়েছিলেন বহু মানুষ। এরপরেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪৫০ জনকে র্যাবিসের টিকা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
ঘটনাটি গোরক্ষপুর জেলার গোলা ব্লকের দাদি খাস গ্রামের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সেখানে স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে একটি টিকাকরণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। তার আগে মঙ্গলবার স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে প্রায় ৫০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছিল। বুধবারের শিবিরে আরও প্রায় ৪০০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গরুর দুধ শুধু চরণামৃত তৈরিতেই ব্যবহার করা হয়নি, সেই দুধ সরবরাহ করা হয়েছিল দুটি দোকান এবং কয়েকটি বাড়িতেও। ফলে দাদি খাসের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গরুটির মালিকের দাবি, মৃত্যুর এক-দু’দিন আগে থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল গরুটি। মঙ্গলবার তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। পশুচিকিৎসকদের সন্দেহ হয়, গরুটিকে কোনও কুকুর কামড়ে থাকতে পারে। পরে গরুটির আচরণেও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গরুটির মৃত্যু হয়। এরপরই ওই গরুর দুধ দিয়ে তৈরি চরণামৃত গ্রহণকারী ভক্তদের মধ্যে জলাতঙ্কের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার গ্রামে পৌঁছয় স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি দল। তার পরেই গ্রামের মানুষ যাঁরা ওই দুধ দিয়ে তৈরি চরণামৃত গ্রহণ করেছিলেন তাঁদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।



