Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্থানীয় ও ভিনরাজ্যের গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে জেরবার শিলিগুড়ি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

গ্যাংয়ের জালে জেরবার শিলিগুড়ি! স্থানীয় ‘কেজিএফ’, ‘পুষ্পা’ থেকে ভিনরাজ্যের নুহ ও বিহার গ্যাং। স্থানীয় গ্যাংগুলি মূলত দাদাগিরি, তোলাবাজি, হুমকি প্রভৃতিতে জড়িত।

স্থানীয় ও ভিনরাজ্যের গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে জেরবার শিলিগুড়ি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
  • ৩০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: গ্যাংয়ের জালে জেরবার শিলিগুড়ি! স্থানীয় ‘কেজিএফ’, ‘পুষ্পা’ থেকে ভিনরাজ্যের নুহ ও বিহার গ্যাং। স্থানীয় গ্যাংগুলি মূলত দাদাগিরি, তোলাবাজি, হুমকি প্রভৃতিতে জড়িত। আর ভিনরাজ্যের গ্যাংগুলি এটিএম লুট ও ডাকাতিতে। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট গ্যাংগুলিকে বাগে আনতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিস। শহরের সুরক্ষায় তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিস অবশ্য অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, অধিকাংশ গ্যাংয়ের সদস্যকে গ্রেপ্তার করে শহরের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। তবে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ নিয়ে নাগরিকদেরও আরও সচেতন হতে হবে। 

Advertisement

উত্তরবঙ্গ তো বটেই, রাজ্যে কসমোপলিটন শহরগুলির মধ্যে শিলিগুড়ি অন্যতম। দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার অংশ নিয়ে এই শহর। এখানে নানা ভাষাভাষির মানুষের বসবাস ক্রমবর্ধমান। এখানেই জন্ম নিয়েছে ‘কেজিএফ’ ও ‘পুষ্পা’ গ্যাং। স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতী গ্যাংগুলি তৈরি করেছে। মূলত দাদাগিরি, তোলাবাজি, জমি দখল, বালি ও পাথরের বেআইনি কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার ঠেক বসানো, মারপিট, হুমকি প্রভৃতি ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ। এনজেপি ও ভক্তিনগর থানা এলাকায় সংশ্লিষ্ট গ্যাংগুলির দৌরাত্ম্য বেশি। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিসের নজরদারির অভাবে সংশ্লিষ্ট গ্যাংগুলি গজিয়ে উঠেছে। 
কয়েকদিন আগে একটি গোলমালের ঘটনার পর ইস্টার্ন বাইপাস এলাকায় ঘোরেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। সেদিন তিনি বলেছিলেন, শহরে কোনও গ্যাং থাকতে দেওয়া যাবে না। সব ঠেক ভেঙে দেওয়া হবে। 
শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শহরে কোনওরকম বেআইনি কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। অসামাজিক কাজকর্ম করার অভিযোগ উঠলেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 
শুধু স্থানীয় নয়, উত্তরবঙ্গের এই বাণিজ্যনগরীতে সক্রিয় ভিনরাজ্যের অপরাধীদের গ্যাংও। ব্যবসা-বাণিজ্য সহ বিভিন্ন অছিলায় এখানে এসে ডেরা বাঁধছে ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীরা। ইতিমধ্যে এটিএম লুটের সঙ্গে জড়িত হরিয়ানার নুহ গ্যাংয়ের সংস্রব মিলেছে এই শহরে। এমনকী, বিহারের নিয়ন্ত্রিত ডাকাতির গ্যাংয়ের অস্তিত্বও মিলেছে এখানে। শহরের হিলকার্ট রোডে একটি সোনার দোকানে দুর্ধর্ষ অপারেশন চালায় একটি গ্যাং। বিহার নিয়ন্ত্রিত ওই গ্যাংয়ে রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশের দুষ্কৃতীরা জড়িত। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটিগুলি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক সিসি ক্যামেরা বিকল। গোয়েন্দা বিভাগও আগের মতো সক্রিয় নয় বলে মনে হচ্ছে। 
ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পূর্ব) অবশ্য বলেন, ওই দু’টি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোনার দোকান থেকে লুট হওয়া গয়নাও উদ্ধার হবে। ওই দুষ্কৃতীরা পুলিসের নজরে রয়েছে। পাশাপাশি, নিয়াপত্তা নিয়ে সোনার দোকান, পেট্রল পাম্পের মালিক সহ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিটিং করা হচ্ছে। ভিনরাজ্যের লোকদের আনাগোনা নিয়ে নাগরিকদের সচেতন করার কাজ চলছে। কাজেই পুলিসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঠিক নয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ