Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিধায়ক কোটার ১০০ শতাংশ খরচা করেছেন পুণ্ডরীকাক্ষ

বিধায়ক তহবিলের ১০০ শতাংশ টাকারই কাজ করেছেন নবদ্বীপের বিদায়ী তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা এমনটাই দাবি করেছেন তিনি

বিধায়ক কোটার ১০০ শতাংশ  খরচা করেছেন পুণ্ডরীকাক্ষ
  • ২৩ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমীর সাহা, নবদ্বীপ: বিধায়ক তহবিলের ১০০ শতাংশ টাকারই কাজ করেছেন নবদ্বীপের বিদায়ী তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা এমনটাই দাবি করেছেন তিনি। সেই উন্নয়নের নিরিখে তিনি নবদ্বীপের বিধায়ক পদে এবার ডবল হ্যাটট্রিক করবেন বলেও আত্মবিশ্বাসী। 

Advertisement

গত ২০২১- ২০২২ এবং ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে ৬০ লক্ষ টাকা করে,  ২০২৩- ২০২৪ এবং ২০২৪-২৫ সালে প্রতি অর্থবর্ষে ৭০ লক্ষ টাকা করে মোট ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা তিনি পেয়েছেন। মোট চারটি অর্থবর্ষে মোট ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। তবে ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের টাকা এখনও এসে পৌঁছায়নি তিনি জানিয়েছেন। এই টাকায় মোট ৩৩টি প্রকল্পের মধ্যে ৩১টি প্রকল্পের কাজ শেষ করেছেন। এখনও ১৪ লক্ষ টাকার দু’টি প্রকল্পের কাজ চলছে। 
তহবিলের টাকায় বিদায়ী বিধায়ক নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংকের অ্যাম্বুলেন্স বাবদ ১৮ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। নবদ্বীপ জন্মস্থান মন্দিরের অ্যাম্বুলেন্স বাবদ ১৬ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা। মায়াপুর-বামুনপুকুর-১ পঞ্চায়েতকে অ্যাম্বুলেন্স বাবদ ৮ লক্ষ ১৬ হাজার দিয়েছেন। নবদ্বীপ রামকৃষ্ণ মিশনে বিবেকানন্দ সংস্কৃতি কেন্দ্রের জন্য ১৫ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা। ভালুকা হাইস্কুলে সংস্কৃতি কেন্দ্র নির্মাণে ৯ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। আরসিবি সারস্বত মন্দির স্কুলে সংস্কৃতি কেন্দ্রের জন্য ৯ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। মায়াপুর-বামুনপুকুরে দু’নম্বর পঞ্চায়েতে ভরুইডাঙার মুক্তমঞ্চে ৫ লক্ষ টাকা। মাহিষ্য পাড়ায় সংস্কৃতি কেন্দ্র করার জন্য ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। মহেশগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে প্রসূতি মা ও শিশুর গৃহ নির্মাণের জন্য ৮ লক্ষ টাকা দিয়েছেন।
এছাড়া বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও রং করার জন্য বিধায়ক তহবিল থেকে টাকা দেওয়া হয়েছে। যেমন নবদ্বীপ হিন্দু স্কুলকে ৭ লক্ষ ৩৬ হাজার। নবদ্বীপ বকুলতলা হাইস্কুলে ৭ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। নবদ্বীপ শ্রীগৌরাঙ্গ বিদ্যাপীঠ স্কুলে ভবন রং করার জন্য ৩ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা। বামুনপুকুর হাইস্কুলে স্কুল এবং ওই পঞ্চায়েতে লাইব্রেরি সংস্কারেও টাকা দেওয়া হয়েছে। মাজদিয়ার কানাইনগর এবং মায়াপুর-বামুনপুকুর-১ পঞ্চায়েতের রাজাপুরে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বাতিস্তম্ভের জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভালুকার আনন্দবাস নতুনপাড়ায় ৬ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা খরচে পিচ রাস্তা হয়েছে। মহিশুড়া পঞ্চায়েতের উত্তরপাড়া থেকে দক্ষিণপাড়া ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকায় পিচ রাস্তা। ভালুকা পঞ্চায়েতের শিমুলতলায় ৫ লক্ষ টাকার ঢালাই রাস্তা। ফকিরডাঙা-ঘোলাপাড়া পঞ্চায়েতে ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা খরচে চারটি ঢালাই রাস্তা এবং বাবলারি পঞ্চায়েতের ঢালাই রাস্তার জন্য ৩ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। চরমাজদিয়া-চরব্রহ্মনগর পঞ্চায়েত এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নবদ্বীপ পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি ঢালাই রাস্তা, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রাচীন মায়াপুর দ্বিতীয় লেন এবং ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভূমাসুক স্কুলের সামনের ঢালাই রাস্তার জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে। 
এদিকে বামফ্রন্ট প্রার্থী স্বর্ণেন্দু সিংহ বলেন, নবদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প, কাঁসা পিতল শিল্প শুকিয়ে গেছে, সেই শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে বিদায়ী বিধায়কের কোনো ভূমিকা নেই। নবদ্বীপের যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের জন্য উনি বিগত ২৫ বছরে কিছুই করেননি। 
বিজেপি প্রার্থী শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, এই ২৫ বছরে নবদ্বীপের কিছু রাস্তাঘাট অবশ্যই হয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে তাপ্পি দেওয়া হয়। কর্মসংস্থান হলে স্থানীয় ছেলেদের অন্য রাজ্যে কাজের জন্য যেতে হত না।
এর জবাবে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, বিগত দিনের ভোট প্রচারে প্রতিশ্রুতিগুলির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। আমার বিধায়ক তহবিলের টাকার কাজ দেখেই মানুষ আমাকে আশীর্বাদ দিয়ে পাঁচবার পাঠিয়েছেন এবারও ষষ্ঠবারের জন্য বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত করবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ