কুন্তল পাল, বনগাঁ: ত্রিপলের ছাউনি দেওয়া ভাঙাচোরা ছোট ঘরটার সামনে বসেছিলেন নিয়তি শবর। তাঁর পাশে বসে আশি ছুঁই ছুঁই এক বৃদ্ধা। তিনি চোখে ভালো দেখেন না। পুজোর কথা শুনে হাসলেন। বললেন, ‘এই পাড়ায় আমার জন্ম। আমরা আদিবাসী। কোনোদিন গ্রামে পুজো হয়নি। এবার হবে। মাকে কাছ থেকে দেখব।’ এই বৃদ্ধা শুধু নন। এবারই প্রথম দুর্গাপুজোয় অঞ্জলি দেবেন কণিকা, কাকলি, পূরবীদেবীরা। এরা প্রত্যেকে বাগদার আমডোব শবরপাড়ার বাসিন্দা। তাঁদের গ্রামে এবছরই প্রথম হচ্ছে দুর্গাপুজো। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, রাজ্যে শবরদের প্রথম পুজো এটাই। এর আগে কোনো শবরপাড়ার পুজো হয়নি। মূলত তাঁদের সমাজের মূল স্রোতে আনতে এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রামে পুজোর আয়োজন করেছে। ওই সংগঠন এর আগে শবরদের শিক্ষিত করে তুলতে গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি করেছে। গ্রামের বাচ্চারা এখন নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায়। সেই স্কুলেরই একটি ঘরে হয়েছে দুর্গাপুজোর আয়োজন। এখন গ্রামজুড়ে আলো জ্বলছে। মাইক বাজছে। গানের তালে বাচ্চারা হাত-পা ছুড়ে নাচানাচি শুরু করেছে। এ সব দেখে গ্রামের সকলে দারুণ খুশি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি পুজোর আয়োজন করেছে। আর গ্রামবাসীরা মহা উৎসাহে যোগ দিয়েছে তাতে। চোখে পড়ার মতো উৎসাহ সবার। তাঁরা ঢাক-কাঁসর বাজিয়ে পঞ্চমীতে ঠাকুর নিয়ে এসেছেন। পুজোর ঘর জল দিয়ে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করেছেন।
কাকলি শবর নামে এক গ্রামবাসী বলেন, ‘এ বছর প্রথম দুর্গাপুজোয় অঞ্জলি দেব। আনন্দে বুক ভরে যাচ্ছে। ঢাকের আওয়াজ শুনে নাচতে ইচ্ছা করছে।’ কণিকা শবর নামে আর একজন বলেন, ‘এতদিন পুজোর সময় গ্রামে আলো জ্বলত না। এ বছরই আলো জ্বলছে, মাইক বাজছে। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে সকলে মিলে খাওয়া দাওয়া হবে। সে ব্যবস্থাও করেছে পুজো কমিটি।’ আর কমিটির সদস্যদের বক্তব্য, মূলত নিজেদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘শবরদের সমাজের মূল স্রোতে ফেরাতেই পুজোর আয়োজন।’- নিজস্ব চিত্র



