প্রীতেশ বসু, কলকাতা: কবে মিলবে দুর্গাপুজোর অনুদান? পুজো যত এগিয়ে আসছে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে। সূত্রের খবর, মাতৃপক্ষ পড়লেই এক লক্ষ টাকার চেক দেওয়া শুরু করবে রাজ্য। সেক্ষেত্রে আগামী রবিবার থেকে চেক বিলি শুরু হয়ে যাবে বলেই প্রশাসনিক সূত্রে খবর। থানার মাধ্যমে চেক পৌঁছে দেওয়া হবে পুজো কমিটিগুলির কাছে। এলাকার বিধায়কদের উপস্থিতিতে চেক বিলি হবে বলেই জানা গিয়েছে। কারণ, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রীদের এই সংক্রান্ত নির্দেশ দিয়েছেন বলেই সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, তিনি ১১ অক্টোবর নিজ নিজ এলাকায় থেকে এই চেক বিলির কাজ তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী-বিধায়কদের।
কিন্তু এবছর কত সংখ্যক দুর্গাপুজো হচ্ছে বাংলায়? আর কতজনই-বা পাবে দুর্গাপুজোর অনুদান? প্রশাসনিক সূত্রে খবর, গতবছর কলকাতার তিন হাজার পুজো মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে মোট দুর্গাপুজোর সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার। সকলেই পেয়েছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান। তবে এবার মুখ্যমন্ত্রীর আরজি মেনে অনেক পুজো কমিটি টাকা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে পুজোর সংখ্যা এবং অনুদান নিয়েছে এমন পুজোর সংখ্যার মধ্যে ফারাক থাকছে। জানা গিয়েছে, এবছর এখনো পর্যন্ত অনুমতি চেয়ে ৬৪ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ, নতুন পুজোর সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার। প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী একাধিক সভায় জানিয়েছিলেন, এবছর দুর্গাপুজোর সংখ্যা বাড়বে। পরিসংখ্যানও বলছে একই কথা। এই ৬৪ হাজারের আবেদনের যাচাই শেষ করে ৩৫ হাজার পুজোর অনুমতি দেওয়ার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের এক পদস্থ কর্তার কথায়, এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এই কাজ শেষ হবে।
যেহেতু বড়ো সহ বহু পুজো আর্থিক অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই কারণে আপাতত ৫৮ হাজার পুজো কমিটির কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করছে রাজ্য। সেক্ষেত্রে রাজ্যের খরচ হতে পারে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।
দুর্গাপুজোর অনুমতি চেয়ে সবচেয়ে বেশি আবেদন করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা—প্রায় ৫,৩০০। চন্দননগর এবং হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকা মিলিয়ে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ২৫০০টি। গ্রামীণ হুগলিতে এই সংখ্যা ৪৫০০, বারাকপুরে ৩৫০০, বীরভূমে ৩৬০০, আলিপুরদুয়ার ১০০০ জলপাইগুড়ি ১৪০০, শিলিগুড়ি ১০০০ এবং দার্জিলিং ৪০০।