আগেও প্রতিবাদ হয়েছে, লোকসান হল এবারই, দাবি যন্তরমন্তরের দোকানিদের
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেই আন্দোলন থামাতে চেষ্টার খামতি রাখেনি প্রশাসন। গত শনিবার বিক্ষোভের দিন যন্তরমন্তরে পৌঁছতেই পারেননি আন্দোলনকারীরা। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মোড়া যন্তরমন্তর। এ বার সেখান থেকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করল দিল্লি পুলিশ। বিকল্প হিসাবে পূর্ব দিল্লির রামলীলা ময়দান, বুরাড়ি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে বেছে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের এই সিদ্ধান্তে মাথায় হাত যন্তরমন্তর সংলগ্ন এলাকার ছোট ব্যবসায়ীদের। তাঁদের আশঙ্কা, বিক্ষোভকারীদের আনাগোনা পাকাপাকিভাবে বন্ধ হলে ক্রেতার সংখ্যা আরও কমবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে রোজগারে। ব্যারিকেড, বাড়তি পুলিশি নজরদারিতে ইতিমধ্যেই ব্যবসায় ভাটা পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিক্রেতারা। তাঁদের বক্তব্য, বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি অফিসযাত্রীদের আনাগোনাও কমে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, সূত্রের খবর দিল্লিতে ২০ হাজার আধাসেনা আরও অন্তত ১ মাস থাকবে। ফলে এখনই ভোগান্তি কমছে না।

Advertisement

যন্তর মন্তরের কাছে গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে খাবারের দোকান চালান বিজয় গুপ্ত। তাঁর আশঙ্কা, আগামী এক মাসে ব্যবসায় প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। বিজয়ের কথায়, ‘আগেও অনেক বিক্ষোভ দেখেছি। নির্দিষ্ট দিনগুলো আমাদের লাভই হত। এই প্রথম ক্ষতির সম্মুখীন হলাম।’ তাঁর দাবি, প্রশাসনের নির্দেশে বিগত কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভস্থলের ঠিক বাইরের সমস্ত খাবারের দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। এলাকায় ২৬ বছর ধরে পান-সিগারেটের দোকান চালাচ্ছেন অজয় কুমার। বিক্ষোভের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘এবার অন্তত রাস্তা ও মেট্রো স্টেশনগুলি খুলে দেওয়া উচিত। মানুষ অফিস আসতে পারছে না। ব্যবসায় বড়ো ক্ষতি হচ্ছে।’ এলাকার আরও এক পান-দোকানি রাজীব বলেন, ‘সত্যি বলতে, সময়টা আমাদের কাছে খুবই অনিশ্চিত। আগে বাবা এই দোকান চালাতেন। এখন অসুস্থতার কারণে আর কাজ করতে পারেন না। এই দোকানের আয়েই আমাদের সংসার চলে, বোনের পড়াশোনার খরচও মেটে। কতটা ক্ষতি হতে পারে, তা হিসাব করে তার পর আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’