


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পুজোর আগে দীঘাকে আরও ঝকঝকে করার উদ্যোগ নিল দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এজন্য প্রায় চার কোটি টাকা খরচ হবে। এরমধ্যে একগুচ্ছ রাস্তা, নিকাশি নালা ও পয়ঃনিষ্কাশন নালার বা সুয়ারেজের কাজ হবে। পিএইচইর মাধ্যমে প্রায় দু’কোটি টাকা ব্যয়ে শুধুমাত্র সুয়ারেজ সিস্টেমের কাজ হবে। জানা গিয়েছে, ওল্ড দীঘার শিবালয় ঘাট রোড, কল্যাণ কুটির রোড, নেহরু মার্কেট মোড় ঘাট রোড, অপরাজিতা ঘাট রোড, নিউ দীঘায় পিকনিক স্পট থেকে ঢেউসাগর রাস্তা, অমরাবতী পার্ক থেকে বাইপাস রোড সংস্কার করা হবে।
জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা, ড্রেন এবং সুয়ারেজ নালার কাজ হবে। পুজোর আগে দীঘাকে আরও ঢেলে সাজার উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাস্তার কাজের জন্য ইতিমধ্যে ডিএসডিএর পক্ষ থেকে টেন্ডার ডাকা হয়েছে। পিএইচই দপ্তরের মাধ্যমে গোটা দীঘায় সুয়ারেজের কাজ হবে। ওই সিস্টেম প্রায় ভেঙে পড়েছে। তা ঢেলে সাজা হবে।
জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর দীঘা পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। হোটেল বুকিংয়ের হার বেশ ভালো। হোটেল ব্যবসায়ীরাও বেশ আশাবাদী। বিপুল পর্যটক সমাগমের কথা মাথায় রেখে দীঘাকে আরও সাজিয়ে তোলার কাজে হাত লাগিয়েছে ডিএসডিএ। দীঘা থানা থেকে উদয়পুর বর্ডার পর্যন্ত ফোরশোর রোডের দু’ধারে জিআই চেন দিয়ে ফেন্সিং করা হবে। এজন্য প্রায় ৩১লক্ষ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এছাড়া, ওল্ড দীঘার শিবালয় পিচ রাস্তা মেরামত হবে। ২৫লক্ষ টাকা ব্যয়ে কল্যাণ কুটির রোড, নেহরু মার্কেট মোড় ঘাট রোড, অপরাজিতা ঘাট রোড সংস্কার করা হবে। এছাড়াও ৩০লক্ষ ৫২হাজার টাকা ব্যয়ে নিউ দীঘার পিকনিক স্পট থেকে ঢেউসাগর যাওয়ার রাস্তা মেরামত করা হবে।
দীঘায় সুয়ারেজ সিস্টেম অনেক পুরনো। অনেক জায়গায় জবরদখল করে দোকানপাট গজিয়ে উঠেছে। সুয়ারেজ ব্যবস্থা ঢেলে সাজার জন্য পিএইচই দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন জায়গা জবরদখল করে বসা একাধিক দোকানপাট সরানো হয়েছে। ওই কাজে দেরি হলে পুনরায় জবরদখলের আশঙ্কা রয়েছে। তাই পিএইচই দপ্তরকে দ্রুত ওই কাজে নামার নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক।
কলকাতা ইস্কনের সহ সভাপতি তথা দীঘা জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সদস্য রাধারমণ দাস বলেন, দীঘায় প্রভুর নবআলয় উদ্বোধনের পর ভক্ত সমাগম অনেক বেড়েছে। জগন্নাথ মন্দির নিয়ে একটা আলাদা উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। সেই সুবাদে এবার পুজোয় প্রভুর দর্শন পেতে বহু ভক্ত রাজ্যের নানাপ্রান্ত থেকে আসবেন বলে আমরা মনে করছি। সেজন্য পুজোর সময় নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে।
দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, পুজোর বুকিং শুরু হয়েছে। আমরা হোটেল মালিক ও ব্যবসায়ীরা এবার পুজোয় ভালো বুকিংয়ের আশায় রয়েছি। সৈকতের সৌন্দর্য এবং প্রভু জগন্নাথের দর্শন পেতে পুজোয় দীঘা হাউসফুল হবে বলে আমাদের ধারণা।-ফাইল চিত্র