তিরুবনন্তপুরম: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী শিবির। তার মধ্যেই কেরলের প্রাক্তন পূর্তসচিব হিসাবে তাঁর ভূমিকা আতশ কাচের নীচে। দক্ষিণের এই রাজ্যে পূর্বতন বাম সরকারের আমলে বিশ্বব্যাংকের অর্থসাহায্যে সড়ক প্রকল্প ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় পূর্তসচিব হিসাবে জ্ঞানেশের অঙ্গুলিহেলনেই যাবতীয় অনিয়ম হয়েছিল বলে অভিযোগ কংগ্রেস নেতা এম বেণুগোপালের। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দু’দিন আগেই জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে নতুন করে ভিজিলেন্স তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কংগ্রেস সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা।
জ্ঞানেশ কেরল ক্যাডারের ১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস অফিসার। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক অনুদানে সড়ক প্রকল্প ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ প্রথম ওঠে ২০০৬ সালে। সেই সময় পূর্তসচিব পদে ছিলেন জ্ঞানেশ। ওই বছরের ডিসেম্বরে কাজের গতি ও মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। ২০০৮ সালে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার কাজ বন্ধ করে দিতে হয়। প্রকল্পের অন্তর্গত রাস্তা নির্মাণের একটি কাজে এক ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে বরাত পেয়েছিল মালয়েশিয়ার একটি সংস্থা। ২০০৬ সালের নভেম্বরে দেশে ফিরে আত্মঘাতী হন মালয়েশিয়ার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার তথা চিফ প্রোজেক্ট অফিসার লি সি বিন। চেন্নিথালার দাবি, আত্মহত্যার আগে লি দু’টি নোট লিখেছিলেন। তার মধ্যে একটিতে জ্ঞানেশের নাম ছিল। কংগ্রেস নেতা এম বেণুগোপালের দাবি, প্রকল্পের কাজে বারবার বিলম্ব ঘিরে সমস্যা তৈরি হয়। আত্মহত্যার আগে লি দফায় দফায় পূর্তদপ্তরের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বকেয়া অর্থ মেটানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু টাকা না মেলায় তিনি সাব-কন্ট্রাকটরদের প্রবল চাপের মুখে পড়েছিলেন। লি-এর মৃত্যুর পর জ্ঞানেশকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরের বছর সেন্ট্রাল ডেপুটেশনে দিল্লি চলে যান তিনি। তৎকালীন বাম সরকার ভিজিলেন্স তদন্তের নির্দেশ দিলেও তা শীঘ্রই থমকে যায়। এবার সেই ফাইলই নতুন করে খুলল কেরল সরকার।