নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যাঙ্কশালে নিগ্রহ কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত পাকড়াও হওয়ায় বৃহস্পতিবার লালবাজার অভিযান বাতিলের সঙ্গে কর্মবিরতিও প্রত্যাহার করে নিলেন আইনজীবীরা। সকালে আইনজীবীদের পাঁচটি সংগঠন জরুরি বৈঠকে বসেন। সেখানেই কর্মবিরতি প্রত্যাহারের বিষয়টি ঘোষণা করেন বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সঞ্জয় সিং ও সম্পাদক রাজা সেনগুপ্ত। তাতে ‘সিলমোহর’ দেয় বাকি চারটি সংগঠনও। এরপরই আদালতে কাজে যোগ দেন আইনজীবীরা। স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে শহরের এই প্রধান ফৌজদারি আদালত। এক সপ্তাহ ব্যাপী কর্মবিরতির জেরে এই আদালতের বিভিন্ন এজলাসে থমকে ছিল হাজার হাজার মামলার শুনানি। ফলে এদিন কর্মবিরতি উঠে যাওয়ার পরই উপচে পড়ে বিভিন্ন এজলাসে বিচারপ্রার্থীদের ভিড়। ল‑ইয়ারর্স ক্লার্ক (ব্যাঙ্কশাল ইউনিট) অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাপন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, ‘মানবিক কারণেই আইনজীবীদের পাশে আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম। এদিন প্রতিটি ল‑ক্লার্ককে যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’
এদিন কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় নিগ্রহ কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত কুশল পান্ডেকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজির করে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে ব্যাঙ্কশাল কোর্ট চত্বর পুলিশ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। বহিরাগতদের রুখতে গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। কোর্ট চত্বরে অশান্তি যাতে না হয়, তাঁর জন্য আইনজীবীদের তরফে মাইকিং করা হয়। দুপুরে মামলাটি উঠলে ধৃতের তরফে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি। দুই সরকারি কৌঁসুলি অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও অরূপ চক্রবর্তী বলেন, অভিযোগ গুরুতর। তাই আমরা জামিনের আপত্তি জানাচ্ছি। ধৃতের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা ঝুলছে। ধৃত কুশল আইনজীবী নিগ্রহ কাণ্ডের মূল ‘পান্ডা’। কুশল আদালতে বলেন, তিনি ভুল করে এই কাজ করে ফেলেছেন। এরজন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। এই ধরনের কাজ আর হবে না। ব্যাঙ্কশালের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) পায়েল বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযুক্তকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এনিয়ে এই মামলায় গ্রেপ্তার হল মোট তিন অভিযুক্ত।