নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ৩০ জুন পর্যন্ত মর্নিং শিফ্টেই হবে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ক্লাস। এনিয়ে শনিবার ফের নির্দেশিকা জারি করে জানালেন জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায়। শুক্রবার তিনি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছিলেন, সোমবার থেকে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে আগের মতো ডে শিফ্টে ক্লাস হবে। এরপরই রাজ্য শিক্ষাদপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি নির্দেশিকা জারি করে জানান, গরমের পরিস্থিতি বুঝে ৩০ জুন পর্যন্ত মর্নিং শিফ্টে স্কুল চালানো যেতে পারে। তবে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে স্কুল কর্তৃপক্ষ। হাইস্কুলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা বা স্কুল পরিচালন কমিটি সিদ্ধান্ত নিলেও প্রাইমারির ক্ষেত্রে তা নিয়ে থাকে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ।
শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, রাজ্য শিক্ষাদপ্তর থেকে নির্দেশিকা হাতে পাওয়ার পরও ডিআই সোমবার থেকে ডে শিফ্টে স্কুল করানোর ব্যাপারে অনড় থাকেন। এমনকী শবিবার সকাল ৮টা নাগাদ তিনি এসআইদের জানিয়ে দেন, সোমবার থেকে ডে শিফ্টেই প্রাইমারির ক্লাস হবে। এরপর সকাল ৯টা নাগাদ নিজের অবস্থান বদলে এসআইদের মাধ্যমে ডিআই জানান, সোমবার থেকে ডে শিফ্টে নয়, ৩০ জুন পর্যন্ত মর্নিং শিফ্টেই জেলায় সরকারি প্রাইমারির ক্লাস হবে। বেলা ১০টা নাগাদ এই মর্মে নতুন করে সার্কুলার জারি করেন ডিআই তথা ডিপিএসসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
প্রাইমারির ক্লাস নিয়ে এভাবে বারবার ডিআইয়ের নির্দেশিকা বদল নিয়ে বিঁধতে ছাড়েননি এবিপিটিএ’র জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক বিপ্লব ঝা। তিনি বলেন, প্রথমত রাজ্যের তরফে কিছু জানানোর আগেই ডিআই নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দিলেন, সোমবার থেকে ডে শিফ্টে প্রাইমারির ক্লাস হবে। এরপর যখন রাজ্য থেকে নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দেওয়া হল, গরমের পরিস্থিতি বুঝে ৩০ জুন পর্যন্ত সকালে স্কুল চালানো যাবে, তখনও ডিআই স্পষ্ট করে বলতে পারলেন না যে, সোমবার থেকে মর্নিং না ডে শিফ্টে প্রাইমারি চলবে। বারবার এভাবে সিদ্ধান্ত বদলের কারণ কী বোঝা গেল না।
বিষয়টি নিয়ে জানতে এদিন বিকেলে ফোন করা হলে ডিআই শ্যামলচন্দ্র রায় বলেন, প্রথমে সোমবার থেকে ডে শিফ্টে প্রাইমারির ক্লাসের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য শিক্ষাদপ্তরের নির্দেশিকা ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ফের নির্দেশিকা দিয়ে জানানো হয়েছে, ৩০ জুন পর্যন্ত মর্নিং শিফ্টেই প্রাইমারির ক্লাস হবে।