Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্কুলের ৬৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম মেধা তালিকায় স্থান, সপ্তম কোয়েলের সাফল্যে উজ্জ্বল জলপাইগুড়ির মুখ

স্কুলের ৬৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম মেধা তালিকায় স্থান, সপ্তম কোয়েলের সাফল্যে উজ্জ্বল জলপাইগুড়ির মুখ
  • ৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, হলদিবাড়ি: মাধ্যমিকে খারাপ ফলে হতাশ হয়েছিলেন জলপাইগুড়ি জেলাবাসী। উচ্চ মাধ্যমিকে সেই আক্ষেপ মিটল তাঁদের। জলপাইগুড়ির কচুয়া বোয়ালমারি হাইস্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে সপ্তম হয়ে জেলাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করলেন কোয়েল গোস্বামী। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৯১ (৯৮.২) শতাংশ। বিদ্যালয়ের ৬৫ বছরের ইতিহাসে কচুয়া বোয়ালমারি হাইস্কুল থেকে এই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিকে কোনও পড়ুয়া সেরা দশে স্থান পেল। স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত স্কুলের শিক্ষকরা। 

Advertisement

জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের অধীনে তিস্তাপাড়ের ছোট্ট গ্রাম কচুয়া এলাকার বাসিন্দা কোয়েলরা। বাবা অশোক গোস্বামী হাটে পান, সুপারি বিক্রি করেন। সেইসঙ্গে নিজেদের সামান্য জমিতে চাষাবাদ করেন। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে কোয়েল। বাড়ি বলতে দরমার বেড়া ও টিন দিয়ে ঘেরা ছোট্ট দু’টি ঘর। কোয়েলকে সব বিষয়ে গৃহশিক্ষক দেওয়ার  মতো সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। ফলে স্কুলের শিক্ষকরা তাঁর জন্য আলাদাভাবে কোচিংয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। এদিন উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ঘোষণার পরই জেলাশাসক শমা পারভীন, জেলা পুলিস সুপার খণ্ডবাহালে উমেশ গণপত সহ জেলা প্রশাসনের কর্তারা কচুয়া বোয়ালমারি স্কুলে আসেন। কোয়েলকে শুভেচ্ছা জানান তাঁরা। এদিন কোয়েলের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে আসেন জলপাইগুড়ি সদরের বিডিও মিহির কর্মকার ও সদর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিনয় রায়। বিডিও বলেন, কলেজে ভর্তির ব্যাপারে কোয়েলকে সবরকম সহযোগিতা করবে ব্লক প্রশাসন।   
কোয়েলের বিষয় ভিত্তিক নম্বর বাংলায় ৯৭, ইংরেজিতে ৯৮, ইতিহাসে ৯৮, ভূগোলে ৯৮ ও ইকোনোমিক্সে ১০০। রেজাল্টে খুশি কোয়েল। তিনি বলেন, আমার এই সাফল্যের পিছনে বাবা-মায়ের বড় অবদান রয়েছে। পাশাপাশি স্কুল শিক্ষক, গৃহশিক্ষকদের অবদান রয়েছে। ইংরেজি অনার্স নিয়ে পড়তে চাই। ভবিষ্যতে ইংরেজির অধ্যাপিকা হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। 
বাবা অশোক গোস্বামীর কথায়, মেয়ে প্রচুর পরিশ্রম করেছে। তার ফল পেয়েছে। মেয়ের সাফল্যে আমি খুব খুশি। মা বাসন্তী গোস্বামী বলেন, ওর সাফল্যে আমরা কতটা কী করতে পেরেছি জানি না। তবে গৃহশিক্ষক ও স্কুলের শিক্ষকদের অনেক বড় অবদান রয়েছে। 
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক জিতেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, আমাদের স্কুল ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত। এই প্রথম কোনও পড়ুয়া মেধা তালিকায় স্থান পেল। আজ অত্যন্ত খুশির দিন স্কুলের ইতিহাসে।  পরিবারের সঙ্গে কোয়েল। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ