


‘টিক টিক টিক টিক যে ঘড়িটা বাজে ঠিক ঠিক বাজে’
জীবনের ইঁদুর দৌড় হোক কিংবা ম্যারাথন—তাতে জয়-পরাজয় ঠিক করে দেয় সময়। ঘড়িতে ঘণ্টা-মিনিট-সেকেন্ডের কাঁটাই সেখানে সর্বেসর্বা। এবার নিখুঁত সময়ের ‘চাহিদা’ মেটাতে এগিয়ে এল জাপান। বিশ্বের সবচেয়ে নিখুঁত সময় দেওয়া ঘড়ি বিক্রি করতে চলেছে তারা। দাম ৩.৩ মিলিয়ন ডলার! ভারতীয় মুদ্রায় যা ২৮ কোটি ৭২ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকারও বেশি। এই ঘড়ির নাম কী? এত দামই বা কেন? নাম ‘এথার ক্লক ওসি ০২০’। কিয়োটোর শিমাদজু কর্পোরেশন নামে একটি সংস্থা এটি তৈরি করেছে। তাদের দাবি, ঘড়িটি এক সেকেন্ড বিচ্যুত হতেও ১ হাজার কোটি বছর লাগবে। শুধু তাই নয়, বর্তমান সবচেয়ে নিখুঁত সময় বিচার করতে ক্যাসিয়াম অ্যাটোমিক ঘড়ি ব্যবহার করা হয়। সেকেন্ডের ভগ্নাংশের হিসেব পেতেও এটি কার্যকরী। ‘স্ট্রনটিয়াম অপটিক্যাল ল্যাটিস’ নামেও পরিচিত এই নয়া ঘড়িটি তার থেকেও ১০০ গুণ সঠিক সময় দেয়। তবে আকারে এটি অন্যদের থেকে ছোট। মাত্র তিন ফুট লম্বা একটি বাক্সে ‘ঘড়িযন্ত্র’টি বসানো থাকবে। হাটে-বাজারে যেখানে শ’খানেক টাকায় ঘড়ি মেলে, সেখানে এত মূল্যবান সামগ্রীর প্রয়োজন কোথায়? বিশেষজ্ঞদের মতে, জটিল গবেষণার জন্য নিখুঁত সময় অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ ঘড়ি দিয়ে তা সম্ভব নয়। শিমাদজু জানিয়েছে, আগামী তিন বছরে তারা ১০টি ‘এথার ক্লক ওসি ০২০’ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে। ভূগর্ভস্থ টেকটনিক প্লেটের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত অত্যাধুনিক বিজ্ঞানসম্মত গবেষণায় এই ঘড়ি ব্যবহার করা যাবে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই টোকিওর স্কাইট্রিতে অপটিক্যাল ল্যাটিস ক্লক রাখা আছে। আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্ব পরীক্ষা করতেই এটি বসানো হয়েছিল।