নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: এসআইআর পর্বে ফর্ম ৬ বদল থেকে ইসিআইনেট পোর্টালের গলদ—সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গিয়েছে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি। আর তারপরেই ভোটচুরির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সরব গোটা দেশ। ককরোচ থেকে বিরোধী মহাজোটের লাগাতার বিক্ষোভে তোলপাড় চলছে রাজধানী দিল্লিতে। পাহাড়প্রমাণ সেই চাপের মুখে পিছু হটে এবার ভোটার তালিকায় নাম সংযোজনের জন্য বিশেষ সংশোধন কর্মসূচি (স্পেশাল সামারি রিভিশন বা এসএসআর) শুরু করছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবারই জারি হয়েছে বিজ্ঞপ্তি। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ১৭টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হচ্ছে সেই অভিযান।
কমিশন জানিয়েছে, নতুন ভোটারের অন্তর্ভুক্তি, তালিকায় নাম সংশোধন, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে এই বিশেষ সংশোধন কর্মসূচিতে। তবে সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ হল, সেই কাজে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক নয়। একইসঙ্গে এসআইআর পর্ব থেকে শিক্ষা নিয়ে কমিশন এও জানিয়েছে, কোনো ভোটকেন্দ্রে ফর্ম-৭ পূরণ করে মোট ভোটারের ২ শতাংশ বা তার বেশি নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব এলে, তা খতিয়ে দেখবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর। স্বয়ং সিইও-কে সবটা যাচাই করতে হবে। এছাড়া একই ব্যক্তি যদি নাম বাদ দেওয়ার জন্য পাঁচটির বেশি আবেদন করেন, তাও আলাদা করে খতিয়ে দেখা হবে।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ওই দিন থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে তালিকা সংশোধনের কাজ। আগামী ৪ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছরই এসএসআর হয়ে থাকে। কিন্তু এসআইআর এবং জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা বিতর্কে এবার তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে কমিশন। মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে আবেদন বা আপত্তি জানানো যাবে। একটি পরিবারের সকল সদস্যকে ভোটার তালিকায় একসঙ্গে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এসআইআরে ইআরওদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। সেই বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় ব্যাপক বিতর্ক হয়। সম্ভবত সেই কারণেস এসএসআর কর্মসূচিতে ইআরওদের হাতেই যাবতীয় দায়িত্ব ছেড়েছে কমিশন। তালিকায় নাম সংযোজন, বিয়োজন বা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সবটাই খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে তাদের।
এত কিছুর পরও অবশ্য হাতে ‘এপিক’ বা সচিত্র পরিচয় পত্র থাকলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভোট দিতে পারবেন, এমন কোনো গ্যারান্টি দিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন। নতুন ভোটার হিসাবে নাম তোলার পর এপিক কার্ড মিললেও সেখানে কমিশন স্পষ্ট ভাষায় বলছে, এপিক কার্ড স্রেফ নির্বাচনি পরিচয়পত্র। প্রতিটি নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় নাম আছে কি না, সেটা দেখে নিন। কমিশনের এক কর্তা জানান, ভোটার কার্ড থাকা মানে ভারতের যোগ্য ভোটার, এটা প্রমাণে কোনো সংশয় নেই। কিন্তু ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে তালিকায় নাম থাকার উপর।



