বিরোধী শিবিরকে ভোট-চুরির প্রমাণ দিতে বললেন রাষ্ট্রপতি
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিরোধীদের দাবি নস্যাৎ করেননি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তবে বিজেপি বিরোধী মহাজোটের থেকে চাইলেন তাঁদের তোলা অভিযোগের প্রমাণ। বললেন, ‘ভোট চুরির প্রমাণ দিন। তারপরই আপনাদের দাবি বিবেচনা করব।’ রাষ্ট্রপতির এই আশ্বাসে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ আপাতত সন্তুষ্ট। তাপতিই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাহুল গান্ধী জানালেন, ‘আমরা খুশি যে রাষ্ট্রপতি আমাদের ভোট চুরির অভিযোগ বাতিল করে দেননি। বলেছেন প্রমাণ দিন। আমরা শীঘ্রই তাঁর কাছে প্রমাণ পৌঁছে দেব।’ শনিবার চেন্নাইয়ে তিনি ছাত্র কি গুঞ্জ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

Advertisement

একইভাবে সোমবার দেশের প্রধান বিচারপতির সূর্য কান্তর কাছে দরবার করতে সুপ্রিম কোর্ট অভিযান হবে বলেই জানিয়ে দিলেন রাহুল। রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া স্মারকলিপিতে গত দু বছরে রাজ্যে রাজ্যে ভোট চুরি হয়েছে ব঩লেই সম্মিলিত বিরোধীদের অভিযোগ। উল্লেখ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের কথাও। একইভাবে ফের পেপার ব্যালটে ভোট ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা, জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যূত করা, ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার সংক্রান্ত আইন বাতিল, এসআইআর বন্ধ করে বাতিল হওয়া ১৩ কোটি নাগরিকের নাম অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। 
এদিন বিকালে পুরানো সংসদ ভবনের ঐতিহাসিক সেন্ট্রাল হলে একে একে একজোট হলেন বিজেপি বিরোধী মহাজোটের নেতানেত্রীরা। সেখানে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মনে করিয়ে দিলেন, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ঐতিহাসিক ‘ট্রিস্ট উইথ ডেস্টিনি’র কিছু অংশ। রাহুলের মুখে নেহরুর বক্তব্যের অংশ শুনে সেন্ট্রাল হলে করতালির ঝড় বয়ে গেল। তারপরই মহাজোটের নেতানেত্রীরা মিছিল করে রওনা দিলেন রাইসিনা হিলস। রাষ্ট্রপতি ভবন। 
যদিও বিরোধী শতাধিক সাংসদদের সিংহভাগকেই বিজয় চকে আটকে দিল পুলিশ। লোহার ব্যারিকেডের ওপারে স্রেফ যাওয়ার অনুমতি রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে পাঠানো তালিকায় থাকা নামই। সেই মতো রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ওমর আবদুল্লা, সুপ্রিয়া সুলে, এম এ বেবির মতো ১০ নেতানেত্রী। আর যাঁদের অনুমতি দেওয়া হল না, সেই সাংসদরা বিজয় চকেই বসে পড়লেন। শুরু করে দিলেন স্লোগান সহ ধরণা। মঙ্গলবারও ফের বড়সড়ো বিক্ষোভ আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছে বিরোধীরা। 
এদিন অভিষেক, মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েনকে নিয়ে সংবিধান সদনে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেন্ট্রাল হলে মমতা প্রথমে গিয়ে বসেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশে। ছিলেন কপিল সিবাল। মমতাকে দেখেই জড়িয়ে ধরেন রেণুকা চৌধুরী। প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন মমতা। প্রিয়াঙ্কা মা সোনিয়াকে ফোন করেন মোবাইলে। সেই ফোনেই সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন মমতা। বিরোধীদের বৈঠকে সুযোগ পেয়ে তৃণমূলনেত্রী পশ্চিমবঙ্গে ভোট লুট করে বিজেপি জিতেছে বলেই সরব হন।