নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: পুজোর আর হাতে গোনা কয়েকদিন । কাশফুলের দোলা শুরু হতেই ঝাড়গ্রামের মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে শিল্পীদের কর্মশালায় এখন দিন-রাত এক করে চলছে দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজ। তবে এ বছর প্রতিমার ক্ষেত্রে থিমের চমকের বদলে সাবেকি দুর্গা প্রতিমার চাহিদাই বেশি।
ঝাড়গ্রাম শহর ও জেলার নানা প্রান্তে থিমের পুজো বাড়ছিল। মণ্ডপ থেকে প্রতিমায় কারা চমক দেবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর জেলার বড়ো দুর্গাপুজো কমিটিগুলি শিকড়ে ফিরছে। জেলার মৃৎ শিল্পীদের কাছে সাবেকি প্রতিমা তৈরির বায়না বেড়ে গিয়েছে। ত্রিপলের ছাউনি দেওয়া ছোটো জায়গায় জোরকদমে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। আগ থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমায় অভিনবত্ব আনার চল হয়েছিল। এবছর সেই প্রবণতা কম। বরং পুরানো দিনের ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন পুজো উদ্যোক্তাদের একাংশ। শহরের বড়ো বড়ো বাজেটের পুজোগুলির মধ্যেও সাবেকি ধাঁচের প্রতিমা তৈরির বরাত এসেছে শিল্পীদের কাছে।
শিল্পীদের কথায়, সাবেকি প্রতিমা তৈরির ক্ষেত্রে মুখের আদল, হাতের কাজ ও সাজসজ্জার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এইবছর মূর্তির গড়ন থেকে অলঙ্কার—সবকিছুতেই শাস্ত্রীয় বিধি মেনে চলার চেষ্টা করছেন তাঁরা। মাটির অলঙ্কারের পাশাপাশি ডাকের সাজের বরাত বেড়েছে। তবে প্রতিমা তৈরির খরচ নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। কাঠামোর উপকরণ, খড়, মাটি, সুতলি, পাট-সহ সাজসজ্জার বিভিন্ন সামগ্রীর দাম বেড়েছে। তার প্রভাব পড়েছে প্রতিমা তৈরির খরচে। নতুনডিহির মৃৎশিল্পী সঞ্জীব দাস বলেন, এবছর প্রায় ২০টি প্রতিমা তৈরি করেছি। কিছু বায়নাও রয়েছে। সুতলি ও পাটের দাম গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। সেই তুলনায় প্রতিমার দাম খুব বেশি বাড়েনি। উদ্যোক্তারা সাবেকি ধাঁচের দুর্গা প্রতিমাই বেশি চাইছেন। তিনি আরও জানান, তাঁর বাবাও মৃৎশিল্পী ছিলেন। সাবেকি ধাঁচের প্রতিমা তৈরির কাজ তাঁর কাছ থেকেই শেখা। বিধান মেনে প্রতিমা তৈরির জন্য কয়েকজনের সঙ্গে কথাও বলেছেন তিনি। শহরের জুবিলী মার্কেট এলাকায় প্রতিমা শিল্পী বলেন, আগে থিমের প্রতিমা তৈরির বায়নাই বেশি আসত। এই বছর প্রায় সবাই সাবেকি ধাঁচের প্রতিমা চাইছেন। এখনও পর্যন্ত একমেটে, দোমেটের কাজ হয়ে গিয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাজের কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
ঘোড়াধরা সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির এক উদ্যোক্তা জানান, মণ্ডপে বৈচিত্র্য থাকলেও এবার সাবেকি প্রতিমারই বায়না দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় রীতি মেনেই পুজো হবে। রঘুনাথপুর সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির এক উদ্যোক্তার কথায়, এবার মণ্ডপে সাবেকি প্রতিমাই থাকবে। বাংলার আদি ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনেই পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। ফাইল চিত্র