


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: শত অভাবেও যে মেধার দীপশিখা নেভে না, তা প্রমাণ করলেন সাগরদিঘির মেয়ে সানা আজমি। শুক্রবারে প্রকাশিত ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ৭৬৪তম স্থান দখল করে সকলকে চমকে দিয়েছেন তিনি। এক গরিব চাষির ঘর থেকে উঠে আসা সানার এই সাফল্যে খুশির জোয়ার এলাকাজুড়ে। সানা আজমির বাড়ি সাগরদিঘি থানার কাবিলপুর পঞ্চায়েতের পাঁকালপাড়ায়। ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবচেয়ে ছোটো।
জঙ্গিপুরের মহকুমা শাসক সুধীরকুমার রেড্ডি বলেন, ইন্টারভিউয়ের আগে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমি ওঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আমরা দেশের জন্য আরও ভালো কিছু করব।
গ্রামের স্কুলেই সানার পড়াশোনা শুরু। পরে কলকাতার একটি বেসরকারি মিশন স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। উচ্চশিক্ষার টানে পাড়ি দেন দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেই সিভিল সার্ভিসের কঠিন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন সানা। সানার বাবা মইজুদ্দিন শেখ পেশায় চাষি, মাঝেমধ্যে শ্রমিকের কাজও করেন। মা ফুলবানু বিবি গৃহবধূ। অভাব সত্ত্বেও সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোনো খামতি রাখেননি তাঁরা। সানার এই লড়াইয়ে পরিবারের প্রতিটি সদস্যই ছিলেন ঢাল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সানার এক দিদি চিকিৎসক। এক দাদা ব্লকের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। ছোট দিদি বর্তমানে দার্জিলিংয়ে এমবিবিএস পাঠরত। মেয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছসিত পরিবারের সকলেই। সানার দাদা ইমরান আলি বলেন, দিদি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক, ভাই ও বোনদের তৈরি করার স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেটা ছোটো বোন করে দেখিয়েছে। ওকে দেখে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হবে। নিজস্ব চিত্র