Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রার্থীপদ তুলে নিতে মন্দারমণিতে ভয় দেখিয়েছিল পুলিশ জেলমুক্তির পর বিস্ফোরক মিলন

‘আপনার কী দাবি বলুন। সব পেয়ে যাবেন। মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিন। তা না হলে হয়রানি ফেস করতে হবে

প্রার্থীপদ তুলে নিতে মন্দারমণিতে ভয় দেখিয়েছিল পুলিশ জেলমুক্তির পর বিস্ফোরক মিলন
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: ‘আপনার কী দাবি বলুন। সব পেয়ে যাবেন। মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিন। তা না হলে হয়রানি ফেস করতে হবে।’ হলদিয়া সংশোধনাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাইরে বেরিয়ে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে এভাবেই ভয় দেখানোর বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন নন্দীগ্রাম উপ নির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। বুধবার দুপুরে তিনি হলদিয়া সংশোধনাগার থেকে মুক্ত হন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার সহ অন্যান্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তাঁকে কার্যত বীরের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। রজনীগন্ধার মালায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। তারপর হুডখোলা গাড়িতে হলদিয়া থেকে নন্দীগ্রামের গাংড়ায় প্রায় ৩০টি গাড়ির কনভয় নিয়ে কংগ্রেস প্রার্থীকে নিয়ে তাঁর বাড়িতে নিয়ে হাজির হন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। তার আগে গত ১৭সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর কীভাবে চোখ বাঁধা অবস্থায় তাঁকে চণ্ডীপুর থেকে মন্দারমণির হোটেলে নিয়ে গিয়ে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয় সংবাদমাধ্যমে তার বর্ণনা দেন।

Advertisement

মঙ্গলবার কংগ্রেস প্রার্থী মিলনকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষে এদিন দুপুরে তিনি হলদিয়া সংশোধনাগার থেকে ছাড়া পান। যদিও এদিনই রাজ্য সরকার তাঁর জামিনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। এদিন মিলন বলেন, ‘নন্দীগ্রামের মাটিকে রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছেন শুভেন্দুবাবু। তারপর মাঝপথে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাই আজ অকাল ভোট হচ্ছে। নন্দীগ্রামে শিরদাঁড়া সোজা রেখে বিজেপির কোনো নেতাকে তিনি টিকিট দিলেন না। তিনি হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছেন। নন্দীগ্রামের বিজেপির কাউকে কেন প্রার্থী করা হল না?’
সুপ্রিম কোর্টে জামিনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী। তিনি বলেন, যে জমি আন্দোলন শুভেন্দুবাবুকে পরিচিতি দিয়েছে সেই আন্দোলনের মামলায় আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো মিথ্যা মামলা। আসলে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। নন্দীগ্রামের মানুষ শিরদাঁড়া সোজা করে লড়াই করতে জানে। একবার, দু’বার ভুল করবে। তৃতীয়বার ভুল করবে না। কোনোকিছুর কাছে মাথানত করবে না। হাতে সময় কম। নন্দীগ্রামে বাড়ি বাড়ি যাব। ২৭৮টি বুথ আছে। সব জায়গায় পৌঁছানোর চেষ্টা করব। 
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছেন। এপ্রসঙ্গে মিলন বলেন, প্রার্থী হিসেবে আমি সকলের সমর্থন চাই। নন্দীগ্রামে আমরা হিন্দু মুসলমান একসঙ্গে বসবাস করি। সেখানে বিদ্বেষ তৈরি করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন নিঃসন্দেহে লড়াইয়ে বাড়তি সাহস দেবে। মিলন আরও বলেন, শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন-কীভাবে ভোট করাতে হয় জানি। তার মানে এটা একটা হুমকি।
এদিনই কংগ্রেস নেতা মানিক ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সকালে বিশিষ্ট লেখক তথা সমাজকর্মী মানিকবাবু ও মতুয়া সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ কংগ্রেস নেতা সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস চণ্ডীপুরের হোটেল থেকে নন্দীগ্রামে প্রচারের জন্য বেরচ্ছিলেন। সেইসময় নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ তাঁদের গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে সুকৃতিবাবুকে ছেড়ে দেওয়ার পর মানিকবাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বেলার দিকে তাঁকে ভবানীভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে কংগ্রেস নেতৃত্বকে জানানো হয়। 
প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা জেলা পর্যবেক্ষক শুভাশিস ভট্টাচার্য বলেন, উপনির্বাচন নিয়ে বিজেপি আতঙ্কে রয়েছে। তাই কংগ্রেসকে দমানোর মরিয়া চেষ্টা করছে। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, সর্বশেষ বিধানসভায় নন্দীগ্রাম আসনে ৭৯৪টি ভোট পাওয়া কংগ্রেস প্রচার পেতে নাটক করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ