Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূলের ওয়ার্ড প্রেসিডেন্টের গোপন কুঠুরি! হতবাক পুলিশ

বাইরে থেকে দেখলে আর পাঁচটা সাধারণ বাসস্থানের মতোই। কিন্তু সেই আবাসনের ছাদেই লুকিয়ে ছিল একের পর এক চমক।

তৃণমূলের ওয়ার্ড প্রেসিডেন্টের গোপন কুঠুরি! হতবাক পুলিশ
  • ১৩ মে, ২০২৬ ০৯:১৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: চরাবস্তির ঘিঞ্জি গলির ভেতরে চারতলা একটা আবাসন। বাইরে থেকে দেখলে আর পাঁচটা সাধারণ বাসস্থানের মতোই। কিন্তু সেই আবাসনের ছাদেই লুকিয়ে ছিল একের পর এক চমক। শিবপুরে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত তৃণমূলের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রেসিডেন্ট শামিম আহমেদ ওরফে বড়ে’র খোঁজে সেখানে হানা দিয়েই কার্যত হতবাক হয়ে যান পুলিশকর্মীরা।

Advertisement

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের তিনদিন পর চরাবস্তিতে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতির বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি ও গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে বড়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর চারজন গ্রেপ্তার হলেও, স্ত্রী-পরিবার সমেত গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত। এরপর গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে খবর আসে, আবাসনের ছাদে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানে নামে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শামিমের  ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেখা যায়, বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। এরপর পাশের মূল সিঁড়ি দিয়ে উপরে পৌঁছন তদন্তকারীরা। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র না মিললেও, নজরে আসে আধাভেজানো একটি গোপন দরজা। দরজা ঠেলতেই নীচের দিকে নেমে যাওয়া সরু সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি বেয়ে নামতেই চোখ কপালে ওঠে পুলিশের। ঝাঁ চকচকে একাধিক গোপন কুঠুরি, দামী আসবাব, অত্যাধুনিক কিচেন, বাথরুমে শাওয়ার বক্স, এক একটি ঘরে তিন-চারটি করে এসি মেশিন।  বিলাসবহুল সেই সাজসজ্জা যেন সিনেমার সেটকেও হার মানায়। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের ওয়ার্ড সভাপতির ফ্ল্যাটের গোপন কুঠুরির অন্দরমহলের ছবি ইতিমধ্যেই  সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘিঞ্জি ওই বস্তি এলাকায় প্রতিটা আবাসনের ছাদ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন ছাদে ছাগল পালনের আড়ালে গাছপালায় এমনভাবে এলাকা ঢেকে রাখা হয়েছিল, যাতে প্রয়োজনে ছাদ টপকে সহজেই পালাতে পারে অভিযুক্ত। তদন্তকারীদের অনুমান, পুলিশের অভিযানের কিছুক্ষণ আগেও কেউ ওই ঘরগুলিতে ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ফ্ল্যাটের সামনের দরজা দিয়ে ঢুকলে এই গোপন কুঠুরিগুলির অস্তিত্ব বোঝাই যায় না। চারতলা ও তিনতলায় এমন একাধিক কুঠুরি গোপনে ছাদের সিঁড়ির সঙ্গে যুক্ত করে রাখা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, প্রয়োজনে ওই গোপন সিঁড়ি ব্যবহার করেই এক ছাদ থেকে অন্য ছাদে পালানোর পরিকল্পনা ছিল বড়ের। পুলিশের এক কর্তার দাবি, ‘খুব বেশি দূরে পালাতে পারেনি অভিযুক্ত। শীঘ্রই ধরা পড়বে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ