নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কালীপুজোয় জাঁকজমকের জন্য রাজ্যজুড়ে পরিচিতি বারাসতের। পুজোর সময় বারাসত শহরে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। এবার চোরবাগান কাণ্ডের পর বাড়তি সতর্ক পুলিশ। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বারাসত জেলা পুলিশ আগেভাগেই উদ্যোগ নিল। শুক্রবার আটটি কালীপুজোর প্যান্ডেল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশের আধিকারিকরা। সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন।
পরিদর্শন দলে ছিলেন বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জি মার্সি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শুভম বাজাজ, দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিএসপি ট্রাফিক নীহাররঞ্জন রায়, বারাসতের এসডিপিও শুভাঙ্গী সুদর্শন কেকান, বারাসত থানার আইসি অনুপম চক্রবর্তী ও অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা। পরিদর্শনের সময় পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে জনস্রোত সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন পুলিশকর্তারা। কতজন নিরাপত্তারক্ষী ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন আছেন, দর্শনার্থীদের সুষ্ঠুভাবে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, পাশাপাশি মহিলা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়। পুলিশের তরফে পুজো কমিটিগুলিকে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরনোর পথ যথেষ্ট প্রশস্ত রাখতে বলা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও রাখতে হবে। জলাধারের পাশে কোনো মণ্ডপ তৈরি হলে জলাধারটি চারদিক দিয়ে ঘিরে রাখার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে ড্রপ গেট তৈরি এবং যানজট এড়াতে উপযুক্ত পার্কিং ব্যবস্থার উপরও জোর দিতে বলেছে।
কলকাতার চোরবাগানে দুর্গাপুজোর সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর উৎসবের মরশুমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করতে আরও সতর্ক প্রশাসন। বারাসত শহরে ১৯টি বড়ো বাজেটের কালীপুজো হচ্ছে। ফলে দর্শনার্থীর ভিড় হবে। সে চাপ সামাল দেওয়া এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোই পুলিশের কাছে বড়ো চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যে পুজোর আগেই নিরাপত্তা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চাইছে জেলা পুলিশ।



