


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি পীযূষ ঘোষকে গুলি করে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। ধৃত রাহুল ঘোষ আগ্নেয়াস্ত্রটি কোথা থেকে পেল তাও এখনও অস্পষ্ট। তৃণমূল নেতাকে খুনের ছক কষেই কি রাহুল আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছিল? কীভাবে সে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পেল তা তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে। বুধবার ধৃত রাহুল ও তার প্রেমিকা সারদামণি মজুমদারকে সিউড়ি আদালতে পেশ করে সাঁইথিয়া থানার পুলিস। সরকারি আইনজীবী মুক্তাব হোসেন বলেন, বিচারক ধৃতদের পাঁচদিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, ধৃতদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
গত শনিবার গভীর রাতে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ও পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ পীযূষকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়। বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০মিটার দূরে তিনমাথার মোড় থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। রাজনৈতিক গণ্ডগোল নয়, ত্রিকোণ প্রেমের জেরে খুন বলে পুলিসের দাবি। ম্যারাথন জেরার পর দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তবে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র কোথায় তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিস ধৃত রাহুলকে জেরা করে তা জানার চেষ্টা করছে। সেইসঙ্গে তদন্তকারী পুলিসকর্তারা ধৃতের ফোনের কললিস্টও খতিয়ে দেখতে চাইছেন। মনে করা হচ্ছে, ধৃতের ফোনের কললিস্টে অনেক তথ্য লুকিয়ে থাকতে পারে। তাতেই আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে এনেছিল তার উত্তরও মিলতে পারে। সেইসঙ্গে ধৃত সারদামণির ফোনের কললিস্টও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
খুনের রাতে ঠিক কী ঘটেছিল? তৃণমূল নেতা পীযূষ বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০মিটার দূরে পৌঁছেছিল সেকথা রাহুল জানল কীভাবে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছে পুলিস। এই খুনের ঘটনায় ধৃত সারদামণির কী ভূমিকা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিস। রাহুল একাই খুনের পরিকল্পনা করেছিল নাকি সারদামণিও তাকে সঙ্গ দিয়েছিল সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
সাঁইথিয়ায় তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের সিউড়ি আদালতে তোলা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র