নয়াদিল্লি: দিল্লিতে সিজেপি ও বামেদের শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি ও পুলিশি ধরপাকড় নিয়ে ফলাও করে খবর প্রকাশিত হয়েছে বিদেশি সংবাদ মাধ্যমগুলিতে। শাণিত শব্দবানে সমালোচনাও করা হয়েছে প্রতিবাদ স্তব্ধ করার সরকারি প্রচেষ্টাকে। প্রতিবাদীদের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও আটক হওয়ায় তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।
‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ লিখেছে, এসআইআরের বিরুদ্ধে তরুণ প্রতিবাদীদের রুখতে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের রাজধানীকে ‘দুর্গে’ পরিণত করা হয়। ‘অভূতপূর্ব’পুলিশি ধরপাকড় চলেছে। তরুণ প্রতিবাদীদের নাছোড় মনোভাবও ছিল সমান ‘নজিরবিহীন’। ‘দ্য গার্ডিয়ান’ তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, অসংখ্য মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ট্রেন বাতিল, ২৫ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী নামিয়ে দিল্লিকে ‘লকডাউন’ করে দেওয়া হয়েছে। সমালোচনার সুর চড়িয়ে এই সংবাদপত্র লিখেছে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা মোদি সরকার বিরুদ্ধমতের প্রতি আগাগোড়াই চরম অসহিঞ্চু। তবে খুব কম প্রতিবাদকেই এভাবে দেশজোড়া দমনপীড়নের সাক্ষী হতে হয়েছে। গুরুতর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের আশঙ্কায় সরকার যে উদ্বিগ্ন, এটা তারই ইঙ্গিত। ‘দ্য ফিন্যানশিয়াল টাইমস’-ও দিল্লির সামগ্রিক পরিস্থিতির বর্ণনায় ‘দুর্গ’ শব্দের ব্যবহার করেছে। ককরোচ প্রতিরোধকে ‘নাছোড়’ বলে উল্লেখ করেছে তারাও। শনিবারের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস লিখেছে, নির্বাচন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতিয়তাবাদী সরকারের প্রতি ‘ক্ষোভে’র বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তবে একইসঙ্গে তারা লিখেছে, অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে ওইদিনের বিক্ষোভকে ‘পঙ্গু’ বানাতে সফল হয়েছে সরকার। মোবাইল ইন্টারনেটে বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ার কারণেও সমস্যায় পড়েন প্রতিবাদীরা। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, গণ প্রতিবাদ দমনে জাতীয় রাজধানীতে ‘লকডাউন’ করে দিয়েছেন মোদি।
বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলিও সরব হয়েছে। প্রতিবাদ রুখতে গণহারে আটকের ঘটনায় শনিবারই উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রসংঘের মানমাধিকার কমিশন। তবে নয়াদিল্লির তরফে পালটা বিবৃতি দিয়ে তার প্রতিবাদ করা হয়। তারই মধ্যে গ্লোবাল মিডিয়া ওয়াচডগ ‘কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে) আটক সাংবাদিক ও সংবাদ কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে। সাংবাদিদের শারীরিক হেনস্তার তদন্ত চেয়ে বলা হয়েছে, গণতন্ত্রের জন্য জরুরি হল সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা।



