সংবাদদাতা, কান্দি: রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রভাব। ভরতপুর ও সালারের ফেরিঘাটে নজরদারি বাড়াল পুলিশ। দুটি জায়গাতেই পুলিশ ২৪ ঘণ্টা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছে। তাই এবার থেকে ফেরিঘাটে কারোর সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলেই ডাকা হতে পারে থানায়। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতেই পুলিশে এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।
রেজিনগর বিধানসভা লাগোয়া রয়েছে ভরতপুর থানার লোহাদহ ফেরিঘাট ও সালার থানার টেঁয়া ফেরিঘাট। দুটি ফেরিঘাট বাবলা নদীর উপর রয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত দুটি ফেরিঘাট খোলা থাকে। ব্যস্ততম দুই ফেরিঘাটে হালকা যানবাহন ছাড়াও প্রতিদিন হাজারের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে টেঁয়া ফেরিঘাট থেকে নওদা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বাড়ি মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে। হুমায়ুন সাহেবের বহু অনুগামী সালারের এই এলাকায় রয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।
এদিকে প্রতি নির্বাচনের সময় দুটি ফেরিঘাটেই পুলিশের নজরদারি বেড়ে যায়। যার ব্যতিক্রম হচ্ছে না এবারেও। মঙ্গলবার থেকেই দুই থানার পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। টেঁয়া ফেরিঘাটে সালার থানা ও লোহাদহ ফেরিঘাটে ভরতপুর থানার পুলিশের পক্ষ থেকে ওই নজরদারি চলছে। দুটি থানার পক্ষ থেকে সিভিক ভলান্টিয়ার ও লোকাল সোর্সরা এই নজরদারি চালাচ্ছেন। তাছাড়া দুই জায়গার সিসি ক্যামেরার কন্ট্রোলরুম রয়েছে থানাগুলিতেই। সেখানেও ২৪ ঘণ্টা মনিটরে চোখ রেখেছেন পুলিশ কর্মীরা। সালার থানার এক অফিসার বলেন, এখনও পর্যন্ত জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফেরিঘাটে ক্যাম্প তৈরির নির্দেশ আসেনি। তবে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভরতপুর থানার এক অফিসার জানান, সিভিক ভলান্টিয়ার ছাড়াও স্থানীয় যুবকদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নির্বাচনের আগে কোনোরকম অশান্তি হতে না দেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত নির্বাচনগুলির অনেক সময় দেখা গিয়েছে এক পাড়ের দুষ্কৃতীরা অন্য পাড়ে এসে তাণ্ডব চালিয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে গত পঞ্চায়েত ভোটের সময় এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। এমনকি এই সময় অসামাজিক কাজে যুক্তরাও ভাড়া হিসেবে কাজ করে। যারা ওই দুই ফেরিঘাট দিয়ে যাতায়াত করে। তাই এখন থেকে ফেরিঘাটে কারোর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে থানায় ডাকা হতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি বুঝে তাৎক্ষনাৎ পুলিশের দল ফেরিঘাটে পৌঁছে যাবে।