


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুলিশ-কাউন্সিলার-অপরাধী মিলিয়ে কলকাতায় চলছে ‘সিন্ডিকেট রাজ’। বাড়ি তৈরির সামগ্রী কোথা থেকে কেনা হবে, তা ঠিক করে দিতেন কাউন্সিলাররাই। বহুতল তৈরিতে পুলিশের তরফে কোন বাধা আসবে না—এ ভরসায় এককালীন ও মাসিক টাকা জমা পড়ত থানায়। সিন্ডিকেটকে টাকা না দিলে কোনো কাজ করা যেত না। জোর করে জমি দখলের মামলায় ধৃত কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার প্রাক্তন অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের শুনানিতে আদালতে এরকম একগুচ্ছ অভিযোগ তুলল ইডি। শান্তনুবাবুর সঙ্গে জেল হেফাজতে থাকা নির্মাণ ব্যবসায়ী জয়ের লেনদেনের বিষয়ে তথ্য তুলে ধরে এজেন্সি। এমনকী ওই পুলিশ কর্তার ছেলে ও স্ত্রীর ব্যবসার বিষয়টি টেনে এনেছে তারা। যে সমস্ত কাউন্সিলাররা এই সিন্ডিকেট ব্যবসা চালাতেন, তাঁদের ডাকা হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে খবর। আদালত শান্তনুবাবুকে ১৪ দিনের ইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে শুক্রবার ব্যাঙ্কশালে ইডির বিশেষ আদালতে হাজির করা হয়। ইডির আইনজীবী আদালতে বলেন, জয় কামদার, শান্তনুবাবু ও দক্ষিণ কলকাতার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনাপাপ্পুর মধ্যে আঁতাত ছিল। জমি কেনার জন্য মালিকের সঙ্গে চুক্তি হয়ে যাবার পর হঠাৎ পিছিয়ে আসতেন জয়। তারপর মালিককে চাপ দিতেন ওই জমি কম দামে বিক্রি করার জন্য। কেউ রাজি না হলে পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতেন। ওই জমির মালিককে ভয় দেখাতেন মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার জন্য। বিভিন্ন থানায় মালিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগও করেছেন। তারপর সোনাপাপ্পুকে দিয়ে ভয় দেখিয়ে ওই জমির দখল নিতেন। শান্তনুবাবুর সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইডি আদালতে দাবি করেছে, তিনি কলকাতা পুলিশের কর্তা ছিলেন। ওয়েলফেয়ার কমিটির মাথায় ছিলেন। ওসিদের ট্রান্সফার করার কারবার চালাচ্ছিলেন তিনি। এখান থেকে বিপুল টাকা রোজগার করেন। অবসরপ্রাপ্ত এই কর্তা নিয়ন্ত্রণ করতেন সমস্ত থানার ওসিদের। বিভিন্ন থানার ওসিদের নির্দেশ দিতেন, ওই রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর হয়ে জমি দখল করিয়ে দেওয়ার জন্য। শান্তনুর হয়ে ওসিদের নিয়ন্ত্রণ করতেন জয়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, এক কোটি টাকা দামের একটি ঘড়ি শান্তনুকে উপহার দিয়েছিলেন জয়। শান্তনুর ছেলেদের নামে জয়ের কোম্পানিতে দুটি ফ্ল্যাট বুক ছিল। ইডি দাবি করেছে, শান্তনুর ছেলের সংস্থায় দুর্নীতির টাকা ঢুকেছে। তাঁর ছেলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ছিলেন। একইসঙ্গে তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা যৌথ মালিকাধীন সংস্থা ৫টি মেডিক্যাল কলেজে ক্যান্টিন চালায়। এতে অংশীদারিত্ব রয়েছে কলকাতা পুলিশের এক সাব ইনসপেক্টরের। এমনকী কান্দিতে বিপুল পরিমাণ জমিতে নির্মাণ করেছেন এই পুলিশ কর্তা। শান্তনুবাবুর আইনজীবী, আদালতে বলেন, এই জমি তাঁর মক্কেলের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া। অনুষ্ঠান সূত্রে জয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। সোনাপাপ্পুকে তিনি চেনেন না। হাজিরা না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় তাঁর আইনজীবী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ না মেলায় তিনি হাজিরা দিতে পারেননি। সওয়াল শেষে শান্তনুবাবুকে ইডি হেফাজতে পাঠানো হয়।।