


অভিষেক পাল, বহরমপুর: গোয়েন্দাদের ধারণাই শেষ পর্যন্ত সত্যিই হল। সামশেরগঞ্জে অশান্তির পিছনে মূল কারিগর গুজবই। সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক অ্যাকাউন্ট, একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে সম্প্রীতির বাতাবরণ নষ্ট করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই, এমন এক হাজার ৯৩টি অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে। যেগুলি থেকে অনবরত উস্কানিমূলক পোস্ট করা হয়েছে। দেদার গুজব ছড়ানো হয়েছে। আর তাতে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি হয়েছে সামশেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ ও সূতির বিভিন্ন এলাকায়। আপাতত ওই সংখ্যক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করার সঙ্গে সঙ্গেই ব্লক করে দিয়েছে পুলিস। আর কিছু অ্যাকাউন্টও সন্দেহের তালিকায়। সেগুলির উপর কড়া নজরদারি চলছে। পরে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে পুলিস জানিয়েছে। তবে, অ্যাকাউন্টগুলি কারা নিয়ন্ত্রণ করছিল, কারাই বা সেগুলি ব্যবহার করে অশান্তি ছড়িয়েছিল, তা নিয়ে এখনও খানিক ধোঁয়াশায় পুলিস। আধিকারিকদের দাবি, চিহ্নিত হওয়া অ্যাকাউন্টগুলির অধিকাংশই ভুয়ো।
মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের এডিজি সুপ্রতিম সরকার বলেন, ‘ফেসবুক, এক্স হ্যান্ডেল, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবে নজরদারি চালিয়ে সাইবার ক্রাইমের তরফে এখনও পর্যন্ত এক হাজার ৯৩টি ফেক অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে। সবক’টি অ্যাকাউন্ট থেকেই উস্কানিমূলক ভুয়ো তথ্য প্রচার করা হচ্ছিল। তাতে সৌহার্দ, সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছিল। ওইসব গুজব একটা অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি করেছিল। সেটা আমরা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছি। যারা গুজব ছড়াচ্ছিল তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি। কাউকেই রেয়াত করা হবে না।’
জঙ্গিপুরের পুলিস আধিকারিকরাও গুজবের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে আগেই সচেতন করেছিলেন। জনমানসে প্রচারও করা হয়, কোনও তথ্য যাচাই না করে কেউ যেন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা থেকে বিরত থাকেন। কোনও তথ্য পেলে পুলিসের কন্ট্রোল রুমে ফোন করে যেন যাচাই করা হয়। সেই আবেদনও রাখা হয়েছিল। তারপর বহু মানুষ ফোন করে নানা তথ্য জানিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গেই সেই সব তথ্য সম্পর্কে তদন্ত শুরু করে পুলিস অফিসাররা। তাতে দেখা যায়, অধিকাংশ তথ্যই ভুল ও বিভ্রান্তিকর। এমনিতেই সাধারণ মানুষ ভুয়ো প্রচার শুনে শুনে আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। তার উপর ওই সব তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হওয়ায় অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। এবং তা মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এমনটাই উঠে আসছে পুলিসের তদন্তে।
তবে, জেলা পুলিসের একাধিক কড়া পদক্ষেপের জেরে ক্রমেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে সামশেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ ও সূতি। ফলে, সোমবার বিকেলের পর থেকে পুলিসের কন্ট্রোল রুমে ফোন আসা কমেছে বলে জানান জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার আনন্দ রায়। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন একদম নিয়ন্ত্রণে। সোমবার বিকেলের পর থেকে গুজব ও ভুল তথ্যের ফোন আসা অনেক কমেছে। কন্ট্রোল রুমে আমাদের অফিসাররা অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছেন।’ • নিজস্ব চিত্র