থিম-যুদ্ধে কাঁপছে বর্ধমান সামলাতে প্রস্তুত পুলিশ-প্রশাসন
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: অপু-দুর্গার সেই প্রথম ট্রেন দেখার দৃশ্যের কথা মনে পড়ে? কিংবা মনে পড়ে সেই গুপি-বাঘার কথা? আম বাঙালির কাছে এখনও অপু-গুপিরা আবেগ। আবার ‘হীরক রাজার দেশ’ বা ‘সোনার কেল্লা’  আজও বাঙালির হৃদয়ে গাঁথা। যুগজয়ী বাংলা সিনেমা। স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়। বাঙালির এই অহংকারই এবার পুজো মণ্ডপের ‘অলঙ্কার’। সৌজন্যে বর্ধমানের সর্বমিলন সংঘ। তাদের থিম ‘এক টুকরো সত্যজিৎ’। 

Advertisement

কেশবগঞ্জ বারোয়ারি তাদের মন্ডপে তুলে ধরেছে নারীর ক্ষমতায়ন। সংসার জগতের সব কাজে কিভাবে নারীশক্তি চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে, সেটাই এই মন্ডপে দেখা যাবে। থিমের শিরোনাম ‘আমি নারী, আমি মহীয়সী’। ঘোড়দৌড়চটি কমিটি  প্রত্যেকবারই চমক দেয়। উল্লাসের দিক থেকে বর্ধমান শহরের প্রথম বড় পুজো  মন্ডপ।  এখান থেকেই দর্শকরা শহরের পুজো দেখা শুরু করেন। ভিড় সামাল দিতে নাজেহাল অবস্থা হয় উদ্যোক্তাদের। এবারও তেমনটাই হবে, ধরে নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। অন্ধকার কাটিয়ে মা আলোর দিশা দেখাচ্ছেন। এমন থিমে  মন্ডপ সাজিয়েছে তারা। এখানে রয়েছে চোখ ধাঁধানো আলোর কাজ। 
 বিজেপি নেতা তথা পুজো উদ্যোক্তা অনীশ দাস বলেন, ‘কলকাতার পর সব থেকে বেশি জাঁকজমকভাবে পুজো হয় বর্ধমানে। ষষ্ঠীর সন্ধ্যা থেকেই মন্ডপে মন্ডপে ভিড় উপচে পড়ে। এবার আরও জাঁকজমকভাবে পুজো হবে। অধিকাংশ মণ্ডপ তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিমাও চলে এসেছে। এখন শুধু উৎসবে মেতে ওঠার পালা।’ পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার পুষ্পা বলেন, ‘পুজো কমিটিগুলি যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন। পুজোর দিনগুলিতে মন্ডপে নিরাপত্তার বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। এছাড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সহায়তা ক্যাম্প থাকবে। শিশুদের বিশেষ পরিচয় পত্র দেওয়া হবে। ভিড়ে কোন শিশু হারিয়ে গেলে ওই পরিচয় পত্র দেখে খুব সহজেই তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে।’
 পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  এবার বর্ধমানে প্রায় ৩০টি পুজো কমিটির থিমের নিরিখে একে অপরকে টেক্কা দিতে মরিয়া। ভিন রাজ্যের মন্দিরের আদলে মন্ডপ তৈরি করছে বেশ কয়েকটি পুজো কমিটি। শহরের অন্যতম বিগ বাজেটের পুজো সবুজ সংঘ দুবাইয়ের একটি মন্দিরের আদলে মন্ডপ তৈরি করে দর্শকদের মন জয় করতে চাইছেন। কিরণ সংঘের থিম জলই জীবন। সুন্দরবনের মানুষদের জীবনযাত্রার কথা পুজো উদ্যোক্তারা মন্ডপে তুলে ধরছেন।  লাল্টু সংঘ এবার তিরুপতি বালাজি মন্দিরের আদলে মন্ডপ তৈরি করছে। এই পুজো মণ্ডপেও ভিড় উপচে পড়ে।  শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা মন্ডপে আসেন। উদ্যোক্তারা বলছেন, এ বছর চতুর্থীর সন্ধাতেই অধিকাংশ পুজো  মন্ডপ উদ্বোধন হয়ে যাবে। ওইদিন থেকেই দর্শকরা প্রতিমা এবং মন্ডপ দেখার সুযোগ পাবেন।