


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: গত এক মাসে বাঁকুড়ায় সাতটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে পুলিশ ওইসব বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে। পরপর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পুলিশ কর্তাদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ভোটের আগে যাতে জেলায় একটিও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র না থাকে, তা পুলিশ আধিকারিকরা নিশ্চিত করতে চাইছেন। এদিকে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর লক্ষ্যে জেলায় আসা পুলিশ পর্যবেক্ষকরা এবার থানাস্তরে নেমে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। অন্যান্যবার থানা এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পর্যবেক্ষকদের কথা বলতে দেখা যেত। পরে তাঁরা জেলা সদরে পৌঁছে পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলতেন। তবে, এবার থানায় বসে ওসি, আইসিদের সঙ্গেও পর্যবেক্ষকরা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন। বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে থানাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র আমরা উদ্ধার করেছি। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে নির্বাচন কমিশন নির্দেশিত যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যেসব থানা এলাকা থেকে গত কয়েকদিনে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রগুলি উদ্ধার হয়েছে, তারমধ্যে ওন্দা, বিষ্ণুপুর, তালডাংরা, বড়জোড়া, সোনামুখী রয়েছে। ওইসব থানা এলাকায় গত কয়েকটি নির্বাচনে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। ফলে পুলিশ কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। তারা বর্তমানে পুলিশ অথবা বিচারবিভাগীয় হেপাজতে রয়েছে। যাতে ভোটের আগে ওইসব দুষ্কৃতীরা জেল থেকে না বের হতে পারে, তারজন্য পুলিশ জামিন অযোগ্য একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। আগ্নেয়াস্ত্রগুলির মধ্যে কয়েকটি চুরি, ছিনতাইয়ের জন্য দুষ্কৃতীরা ব্যবহার করেছে। বাকিগুলি নির্বাচনের সময় বুথ দখল, ছাপ্পা সহ অন্যান্য কাজে ভোটারদের ভয় দেখাতে ব্যবহার করার ছক কষা হয়েছিল বলে ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। কিন্তু, এত আগ্নেয়াস্ত্র জেলায় কীভাবে এসেছে? এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, মালদহ, মুর্শিদাবাদের মতো আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার বাঁকুড়ায় হয় না। বিক্রির জন্য জেলায় আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করার প্রবণতা কম। ফলে জেলায় খুব বেশি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে আমাদের মনে হয় না। বাঁকুড়ায় দু’-এক পিস করে দেশি পিস্তল ঝাড়খণ্ড থেকে পুরুলিয়া অথবা পশ্চিম বর্ধমান হয়ে আমদানি করা হয়। ফল, আনাজের গাড়িতে লুকিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র আমদানি করা হয়ে থাকে। সেই কারণে থানা এলাকার অন্দরে টানা অভিযান চালানোর পাশাপাশি আন্তঃজেলা সীমানাতেও কড়া নজরদারি রাখা প্রয়োজন। অধিকাংশ জায়গায় নাকা চেকিং শুরু হয়ে গিয়েছে। পুলিশ পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সর্বত্র যাচ্ছেন। ফলে আমরাও আদাজল খেয়ে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধরে নেমে পড়েছি।