Bartaman Logo
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে খাবারের থালায় ‘বিষ’! আচমকা পরিদর্শন চলবে আধিকারিকদের

কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে আসা জনস্রোতকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পচা, বাসি এবং ভেজাল খাদ্যসামগ্রী মজুত করা শুরু করেছে বলে অভিযোগ

কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে খাবারের থালায় ‘বিষ’! আচমকা পরিদর্শন চলবে আধিকারিকদের
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে আসা জনস্রোতকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পচা, বাসি এবং ভেজাল খাদ্যসামগ্রী মজুত করা শুরু করেছে বলে অভিযোগ। সেকারণে কৌশিকী উৎসবের ঠিক মুখেই গত ১ আগস্ট থেকে তারাপীঠে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছিল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। শহরের অলি-গলিতে থাকা ছোটো-বড়ো হোটেল, নামী-দামী রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলিতে ধারাবাহিক ‘সারপ্রাইজ রেড’ চালানো হয়। সেই তল্লাশি অভিযান চালাতে গিয়েই সিদ্ধপীঠে চলা হোটেল, রেস্তরাঁগুলিতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখে খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়।

Advertisement

অভিযানে নেমে আধিকারিকরা দেখতে পান, খাবারের স্বাদ আর আকৃতি আকর্ষণীয় করতে অবাধে মেশানো হচ্ছে চরম ক্ষতিকর কৃত্রিম ও রাসায়নিক রং। মিষ্টির পশরা থেকে শুরু করে বিরিয়ানির আলু-সবকিছুতেই ছিটানো হচ্ছে রংয়ের বিষ! বাদ যায়নি সাধারণ মুদি মশলার দোকানও, সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে নকল হলুদ। এমনকি, শিশুদের জন্য দোকানে তুলে রাখা হয়েছিল মেয়াদউত্তীর্ণ প্যাকেটজাত দুধ।
বড়ো বড়ো রেস্তোরাঁর ঝাঁ-চকচকে ডাইনিং এরিয়ার পিছনে থাকা রান্নাঘরের দৃশ্য আরও ভয়াবহ। অপরিষ্কার, দুর্গন্ধযুক্ত ফ্রিজে দিনের পর দিন জমিয়ে রাখা হয়েছিল কাঁচা মাছ-মাংস এবং কয়েকদিনের পুরানো রান্না করা গ্রেভি। একই রান্নার তেল বারবার ফুটিয়ে তা এতই বিষাক্ত করে তোলা হয়েছিল যে, দেখতে তা পোড়া মোবিলের রূপ নিয়েছিল। রান্নার কাজে ব্যবহৃত জল ছিল ঘোলা ও অস্বাস্থ্যকর। রাসায়নিক পরীক্ষায় তা ব্যবহারের অনুপযুক্ত বলে প্রমাণিত হয়। অভিযান চলাকালীন আধিকারিকরা কোনো আপস করেননি। বিষাক্ত, বাসি ও ভেজাল সব খাবার তৎক্ষণাৎ ডাস্টবিনে ফেলে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেওয়া হয় এবং ব্যবসায়ীদের শেষবারের মতো কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আজ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার তারাপীঠে কৌশিকী উৎসবে মেতে উঠবেন লক্ষ লক্ষ ভক্ত।  বধুবার থেকেই তাঁরা এই পুণ্যভূমিতে আসতে শুরু করেছেন। অমাবস্যার মূল দিনগুলিতে যাতে কোনো দর্শনার্থী বা পুণ্যার্থী তারাপীঠে এসে ভেজাল খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে না পড়েন, তার জন্য প্রশাসন পুরোপুরি মারমুখী মেজাজে রয়েছে।
রামপুরহাটের মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোর জানান, আমাদের মূল লক্ষ্য হল দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আগে অভিযানে ব্যবসায়ীদের পর্যাপ্ত সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও যদি কেউ নির্দেশিকা অমান্য করে খাবারের মান খারাপ রাখে, তবে কোনো রেয়াত করা হবে না। মহকুমা শাসক আরও জানান, কৌশিকী উৎসবের পুরো সময় জুড়ে তারাপীঠের হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, কমিউনিটি কিচেন এবং সাধারণ ভক্তদের দেওয়া ‘ভাণ্ডারা’র খাবারের গুণগত মান যাচাই করতে ২ জন খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিক ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ