‘চোখ’ নিয়ে ছিনিমিনি! ভুয়ো ডাক্তার ধরতে অভিযানের নির্দেশ হাইকোর্টের
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে যেকোনো ভারতীয় নাগরিকের ‘রাইট টু লাইফ’ বা জীবনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আর তাতেই সংরক্ষিত রয়েছে দৃষ্টি শক্তির অধিকারও। অর্থাৎ চোখ বা দৃষ্টি শক্তির অধিকারও মৌলিক অধিকারের পর্যায়ে পড়ে। আর তা নিয়েই ছিনিমিনি খেলা চলছে। রাজ্যজুড়ে রমরমিয়ে চলছে বেআইনিভাবে চোখের চিকিৎসা। অজান্তেই যার শিকার হচ্ছেন বহু মানুষ। এমনই অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় এবার কঠোর পদক্ষেপ করল হাইকোর্ট।  

Advertisement

সাধারণত চোখের যেকোনো চিকিৎসা করতে পারেন একজন ‘অপথালমোলজিস্ট’। এক কথায় এই অপথালমোলজিস্টদেরই চোখের ডাক্তার বলা হয়ে থাকে। আর একজন অপটোমেট্রিস্টের কাজ হল চোখের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করে সঠিক ‘পাওয়ার’ নির্ধারণ করা। এরপরই আসে অপটিশিয়ানের পালা। যিনি অপথালমোলজিস্ট ও অপটোমেটরিস্টের পরামর্শ মতো চশমা প্রস্তুত করে দেন। কিন্তু অভিযোগ হল, যোগ্য ডিগ্রি না থাকলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি দিনের পর দিন চোখের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন আই ক্লিনিক ও চশমার দোকানে রমরমিয়ে চলছে এই কারবার।  
মামলাকীর সুজিত বিশ্বাস চোখে আঘাত নিয়ে শান্তিপুর কলেজের পাশে একটি আই ক্লিনিকে চিকিৎসা করাতে যান। সেখানে ওই ক্লিনিকের মালিক অরূপ রায় প্রেসক্রিপশন করে ওষুধ দেন। যদিও চোখের চিকিৎসার কোনো ডিগ্রি তাঁর নেই বলে অভিযোগ। এরপর সেই ওষুধ ব্যবহার করে চোখের অবস্থার অবনতি হলে সুজিত বিশ্বাস ফের ওই ক্লিনিকে যান। তখন তাঁকে কার্যত সেখান থেকে ভাগিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয় তাঁর নিজের অবহেলার কারণেই চোখের অবস্থা খারাপ হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগ জানায়, তাঁকে যে ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, সেটি হাই ডোজের অ্যান্টিবায়োটিক, যাতে চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরপর ওই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানান তিনি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হয়নি। 
ফলে বাধ্য হয়ে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সেই মামলাতেই কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যজুড়ে সর্বত্র হানা দিয়ে চোখ নিয়ে এই ধরনের বেআইনি কারবার বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছে উচ্চ আদালত। কেউ যদি এমন কার্যকলাপে যুক্ত থাকেন, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছে আদালত। তবে যাঁরা আইন মেনে কাজ করছেন, তাঁরা ছাড় পাবেন বলেও স্পষ্ট করেছে বেঞ্চ।