সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: গুজরাত মডেলে গঙ্গারামপুরে আধুনিক তাঁত টেক্সটাইল হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে প্রকল্পের জন্য সরকারি জমি চিহ্নিত হয়েছে। গঙ্গারামপুরের তাঁতশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের লক্ষ্য, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে তাঁতশিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা এবং শিল্পীদের সরাসরি সরকারি সুযোগ সুবিধার আওতায় আনা। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া তাঁতিদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, উন্নত যন্ত্রপাতি, নতুন ডিজাইন ও বিপণনের সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, গঙ্গারামপুরের বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়ের উদ্যোগে শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড, গচিহার এবং কৃষি দপ্তরের মোট তিনটি সরকারি জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি জমির আয়তন প্রায় ২০ একর। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে রাজ্যের শিল্প দপ্তরে জমির বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়ে সেখানে জাতীয় মানের টেক্সটাইল হাব গড়ে তোলার প্রস্তাব পাঠানো হবে।
জানা গিয়েছে, নতুন টেক্সটাইল হাব শুধু অবকাঠামো নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। গুজরাত ও মুম্বইয়ের টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞ ও ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। উন্নত মেশিন, আন্তর্জাতিক মানের ডিজাইন এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমন কাপড় উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার দেশ-বিদেশের বাজারে চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি তাঁতিদের উৎপাদিত পণ্যের বিপণন ও বাজার সম্প্রসারণেও সরকারি সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে। গঙ্গারামপুরের বিধায়ক বলেন, জাতীয় মানের টেক্সটাইল হাব গড়ে তুলে তাঁতশিল্পকে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। গুজরাত ও মুম্বইয়ের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে শিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক যন্ত্রের ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিত করে রাজ্য সরকারকে জানানো হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলার তাঁতশিল্পের পাশাপাশি অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে। বামফ্রন্ট আমল থেকে গঙ্গারামপুরের তাঁতশিল্প নানা সমস্যায় জর্জরিত। তৃণমূল সরকারের সময় ঠেঙ্গাপাড়ায় ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তাঁত ফ্যাসিলিটি সেন্টার নির্মিত হলেও তার সুফল অধিকাংশ তাঁতির কাছে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ।
বর্তমানে জেলার গঙ্গারামপুর, তপন, বংশীহারি, কুমারগঞ্জ ও ঠেঙ্গাপাড়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি তাঁতশিল্পী রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি ফ্যাসিলিটি সেন্টার থেকে উন্নত মানের সুতো, রং, আধুনিক ডিজাইন বা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা কোনোটাই কার্যকরভাবে মেলেনি। স্থানীয় তাঁতশিল্পী নিলয় সরকার বলেন,আগের সরকারের আমলে অধিকাংশ তাঁতি সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ফ্যাসিলিটি সেন্টার থেকেও তেমন লাভ হয়নি। নতুন সরকারের কাছে আশা, আধুনিক প্রযুক্তি ও বাজারের সুযোগ দিয়ে যাতে এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা যায়।