


সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ির সাপটিবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পাইপলাইন পাতার কাজ শুরুর আগে বাধা দিলেন গ্রামবাসীরা। এতে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিস ও প্রশাসনের কর্তারা। তাঁরা গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। কৃষিজমি এবং চা বাগানের জমির ক্ষতিপূরণের দর ঠিক করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গ্রামবাসীরা প্রশাসনের কথা মেনে নিলে শুরু হয় পাইপলাইন পাতার কাজ। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামবাসীরা খুব দ্রুত নির্ধারিত দরে টাকা পেয়ে যাবেন।
অভিযোগ উঠছিল, সাপটিবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের এই একই এলাকায় অন্য এক কোম্পানি একবছর আগে পাইপলাইন পেতেছিল। জমি খোড়া হয়। তাতে ক্ষতি হয়। কিন্তু, গ্রামবাসীরা সঠিকদরে সেই ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি। সে কারণে গ্রামবাসীর মনে ক্ষোভ জমেছিল। শুক্রবার আরএক কোম্পানি সেখানে পাইপলাইনের কাজ করতে গ্রামবাসীরা সেই ক্ষোভ উগরে কাজে বাধা দেন। ঘটনাস্থলে এসে বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু বলেন, কৃষিজমির জন্য ১৪,৮৪০ টাকা ডেসিমেল এবং চা বাগানের জন্য ১৬,১০০ টাকা ডেসিমেল ধার্য করা হয়েছে। গ্রামবাসীরা এটা মেনে নিয়েছেন। খুব দ্রুত তাঁরা টাকা পেয়ে যাবেন। সমগ্র ময়নাগুড়িতে ২৯ কিমি কাজ হবে। প্রত্যেকে সমানভাবে টাকা পাবেন।
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কুমুদরঞ্জন রায় বলেন, প্রথমদিকে একটি কোম্পানি সেখানে কাজ করেছিল। সেসময় টাকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য হয়েছিল। এতেই গ্রামবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। তবে একটি দর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সেটা মেনে নিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে হাজির ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল ঘোষ বলেন, পাইপলাইন পাতার ক্ষেত্রে যে দর রাখা হয়েছে, এই দরেই প্রত্যেকে টাকা পাবেন। কোনও দালালরাজ বরদাস্ত হবে না। গ্রামবাসী উপেন রায়, অদ্বৈত রায় বলেন, এর আগের বার যে টাকা আমাদের পাওয়ার কথা ছিল, তা আমরা পাইনি। সে কারণেই এবার আমরা কাজে বাধা দিয়েছিলাম। তবে প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। মঙ্গলবার আমরা টাকা পাব বলে জানতে পেরেছি। এদিন থেকে পাইপলাইনের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।