Bartaman Logo
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এশিয়াডে কবাডিতে ভারতকে সোনা এনে দিয়ে আপ্লুত পিঙ্কি

জীবনযুদ্ধ আর খেলার মাঠ, দু’জায়গাতেই লড়াইয়ে অভ্যস্ত এই মেয়ে। শৈশবে পিতৃহারা রানাঘাটের মেয়ে পিঙ্কির জীবনযুদ্ধ বেশ আকর্ষণীয়। লড়াই করতে করতেই চলতি বছরের এশিয়াডে জাতীয় দলে ঠাঁই পায় পিঙ্কি।

এশিয়াডে কবাডিতে ভারতকে সোনা এনে দিয়ে আপ্লুত পিঙ্কি
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রানাঘাট: জীবনযুদ্ধ আর খেলার মাঠ, দু’জায়গাতেই লড়াইয়ে অভ্যস্ত এই মেয়ে। শৈশবে পিতৃহারা রানাঘাটের মেয়ে পিঙ্কির জীবনযুদ্ধ বেশ আকর্ষণীয়। লড়াই করতে করতেই চলতি বছরের এশিয়াডে জাতীয় জলে ঠাঁই পায় পিঙ্কি। আর এশিয়াডে নেমেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে মেয়ের। জাপ এশিয়াডে কবাডি দলের হয়ে ফাইনালে ইরানকে ৩ পয়েন্টে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেন ভারতীয় মহিলারা। ইন্ডিয়ান রেলওয়ে সিগন্যাল টেলিকম বিভাগের চাকুরে পিঙ্কি  রায় বর্তমানে হায়দ্রাবাদে থাকেন।

Advertisement

মাত্র ৬ বছর বয়সেই পিতৃহারা হন পিংকি। বাবা প্রয়াত চণ্ডী রায় কলকাতা পুলিশে কাজ করতেন। ২০১৭ সালে প্রয়াত হন পিঙ্কির মা ঝুমা রায়। তিনি ছিলেন একজন নাট্য শিল্পী। আর্থিক অনটন ও কষ্টের মধ্যে ঝুমাদেবী একাই দুই মেয়েকে মানুষ করেছেন। পিঙ্কির দিদি সিঙ্গাপুরে থাকেন। স্কুলের ক্রীড়াশিক্ষিকা সরিতা চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় কবাডির কোর্টে পা রেখেছিলেন পিঙ্কি। শুরুর দিকে কোচ অভয় বিশ্বাস ও পিঙ্কি দাসের অধীনে কবাডির প্রাথমিক পাঠ নিয়েছিলেন। পরে হুগলির চন্দননগরের কোচ তন্ময় চট্টোপাধ্যায়ের প্রশিক্ষণে ক্রমেই দ্রুত উন্নতি করতে থাকেন তিনি।
২০১২ সালে প্রথমবার রাজ্যস্তরে প্রতিনিধিত্ব করে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া। সেই বছরই প্রথম নারী বিশ্বকাপ শিবিরে ডাক পেলেও চূড়ান্ত দলে ঠাঁই হয়নি। তবে থেমে থাকেননি পিঙ্কি। তিনি যে থামতে জানেন না। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই যে এই মেয়ের রক্তে। ২০১৩ সালে তাঁর অধিনায়কত্বেই দীর্ঘ ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ বিচ কবাডি দল রুপো জেতে। প্রতিযোগিতার সেরা খেতাব অর্জন করেন পিঙ্কি। ২০১৬ সালে খেলার কোটায় সাউথ সেন্টার রেলে চাকরি। অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত কবাডি তারকা ঋতু নেগী পিঙ্কির অভিভাবক সম।
খেলোয়াড় জীবনে চোট ও সুযোগ হাতছাড়া হওয়া তার পিছু ছাড়েনি। ২০১৯ সালে হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের কারণে হাতছাড়া হয় সাউথ এশিয়ান গেমসে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ। ২০২৪ সালেও বিশ্বকাপ শিবিরে সুযোগ পেলেও চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি। তবে সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে ২০২৬ এশিয়ান গেমসের জাতীয় শিবিরে জায়গা করে নিয়েছিল রানাঘাটের এই মেয়ে। আর এরপর তো সবই ইতিহাস। দেশের হয়ে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন পিঙ্কি।
নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে সোনার মেয়ে বললেন,অদম্য জেদ আর লক্ষ্য স্থির থাকলে যে কোনো প্রতিকূলতা অতিক্রম করে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। আমার দীর্ঘদিনের লক্ষ্য আর স্বপ্নপূরণ হয়েছে। প্রয়াত বাবা-মায়ের  স্বপ্নপূরণ করতে পেরেছি। আমি ভীষণ আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ