


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: দেশে বিদেশে নিজেদের শিল্পকলা তুলে ধরে প্রশংসা কুড়িয়েছেন পিংলার পট শিল্পীরা। তবে এবার আধুনিকতার সঙ্গে পরম্পরার মেলবন্ধ ঘটানোর জন্য রাষ্ট্রপতি ভবনে ডাক পেয়ে আপ্লুত তাঁরা। শিল্পীরা জানাচ্ছেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এমন একটি কাজে অংশ নিতে পেরে খুশি। দেশের তিন রাজ্যের ১০ জন করে মোট ৩০ শিল্পীকে এই কাজের জন্য রাষ্ট্রপতি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ১৪ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত তাঁরা রাষ্ট্রপতি ভবনেই পট শিল্পের কাজ করেন। জানা গিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতি ভবনে আসা অতিথিরা এই শিল্পকলা দেখতে পাবেন। পট শিল্পীরা টেবিলের ম্যাটে ফুটিয়ে তুলেছেন আদিবাসীদের সামাজিক জীবন। আদিবাসীদের বিবাহ থেকে বাড়িঘর, নানা পরবের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একইসঙ্গে সমাজ কল্যাণমূলক দিক তুলে ধরার জন্য বৃক্ষরোপণের চিত্রও উঠে এসেছে। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ফিরে এসেছেন আনোয়ার চিত্রকর। তিনি আগেও রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়েছেন। এদিন তিনি বলেন, মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও সীতাহরণের মতো পৌরাণিক কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। পটচিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলাও। রয়েছে জমিদারদের মাছ ধরার ছবিও। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে ছবিও তুলেছি। আমরা সকলেই আপ্লুত।
পিংলা ব্লকের নয়াগ্রামের বাসিন্দারা বংশপরম্পরায় পট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিভা থাকলেও একসময় এই গ্রামের বাসিন্দারা খুবই আর্থিক সমস্যায় ভুগতেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে ছবিটার কিছুটা বদল হয়েছে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে হওয়া বিভিন্ন মেলায় গিয়ে লক্ষ্মীলাভ হচ্ছে শিল্পীদের। এছাড়া এই গ্রামের শিল্পীদের হাতের কারুকাজে টি শার্ট, ওড়না থেকে শাড়িতেও ফুটে ওঠে পটের ছবি। পাশাপাশি হাতপাখা, চায়ের কাপ থেকে জলের বোতল, সবেতেই এই শিল্পকলার ছোঁয়া রাখছেন গ্রামবাসীরা। বর্তমানে ভিনদেশেও ডাক পাচ্ছেন শিল্পীরা। তবে রাষ্ট্রপতি ভবনে ডাক পাওয়ায় বাড়তি খুশি পটুয়ারা। এদিন আনোয়ার বলেছিলেন, বিভিন্ন দেশে অনেক শিল্পীরাই কাজ করতে যান। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার সুযোগ সবার হয়না। দারুন অভিজ্ঞতা হল। ওঁদের ভালোবাসায় আপ্লুত।রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন শিল্পীরা। ধীরে ধীরে তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। পট শিল্পীদের পাশে থাকব। পিংলার এক পটশিল্পী।-নিজস্ব চিত্র