Bartaman Logo
৫ অক্টোবর, ২০২৬

কেদারনাথে জমা হওয়া বর্জ্য পরিষ্কার করছেন পুণ্যার্থীরাই

গৌরিকুণ্ড থেকে কেদারনাথ। পাহাড়ি চড়াই-উতরাই বেয়ে ১৮ কিলোমিটার পথ। ভগবান শিবের টানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর গন্তব্য হয়ে ওঠে কেদারনাথ

কেদারনাথে জমা হওয়া বর্জ্য পরিষ্কার করছেন পুণ্যার্থীরাই
  • ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দেরাদুন: গৌরিকুণ্ড থেকে কেদারনাথ। পাহাড়ি চড়াই-উতরাই বেয়ে ১৮ কিলোমিটার পথ। ভগবান শিবের টানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর গন্তব্য হয়ে ওঠে কেদারনাথ। ঈশ্বর-দর্শনে পুণ্যলাভ করে তাঁরা ফিরে যান। কিন্তু, পাহাড়ের কোলে জমতে থাকে আবর্জনার স্তূপ। তাতে দূষিত হয় প্রকৃতি। এই সমস্যা সমাধানে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এর পোশাকি নাম ‘ক্যারি মি ব্যাক’। এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার অংশ হিসেবে পুণ্যার্থীরা মন্দির ও ভোলানাথকে দর্শনের পর নেমে আসার সময় হাতে করে আবর্জনার প্যাকেট নিয়ে আসছেন। সরকারি হিসাব বলছে, ইতিমধ্যেই পাঁচ হাজারের বেশি পুণ্যার্থী এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। তাতে ১২ টনের বেশি কমপ্রেসড প্ল্যাস্টিক বর্জ্য নীচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এই সাফল্যের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন আধিকারিকরা। তাঁদের বক্তব্য, পাহাড়ের বিভিন্ন কোণায় জমা হওয়া ওই আবর্জনা নামিয়ে আনা খুবই জটিল কাজ। নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় প্রশাসনকে। কিন্তু, পুণ্যার্থীরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় কাজ অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে।  

Advertisement

জানা গিয়েছে, তামিলনাড়ু, ওড়িশা সহ একাধিক রাজ্য থেকে বেশ কিছু পুণ্যার্থী কেদার দর্শনে এসেছিলেন। তাঁরা সাইকেলে ১০ কেজি করে আবর্জনা নিয়ে নেমে এসেছেন। এরমধ্যে আলাদা নজর কেড়েছেন মদন লাল নামে এক ব্যক্তি। তাঁর এক হাত বাদ পড়েছে। বাকি এক হাতকে সম্বল করেই আবর্জনার ব্যাগ নিয়ে গৌরীকুণ্ডে পৌঁছেছেন তিনি। গুরুগ্রামের তরুণী অঙ্কিতা সিংও দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে আট কেজি বর্জ্য নামিয়েছেন। তাঁর কথায়, গুরুগ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করেছিলাম। কেদারনাথ আমাদের ট্যুর প্ল্যানিংয়ে ছিল না। কিন্তু, এখানে চলেই এলাম। এটা মিরাকল ছাড়া আর কিছুই নয়। তার উপর এই মহান উদ্যোগের অংশ নেওয়া ভগবানের আশীর্বাদ ছাড়া সম্ভব হত না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ