


নয়াদিল্লি: মোবাইল ফোন কেনাবেচার নিরিখে বিশ্বে এখন প্রথম সারিতে ভারত। তথ্য বলছে, দেশে প্রতি বছর গড়ে ১৫ কোটি বেশি টাকার ফোন বিক্রি হয়। আর কমদামী ফোন ছেড়ে অনেকেই এখন ঝুঁকছেন নামী ব্র্যান্ডের মোবাইলের দিকে। সেক্ষেত্রে পকেটে টান পড়লেও অসুবিধা নেই। সহজেই পাওয়া যাচ্ছে ব্যাংক ঋণ। মাসিক কিস্তিতে টাকা দিয়ে দামী ফোন ব্যবহার করছেন, এমন ক্রেতার সংখ্যা কম নয়। ব্যাংক ও ঋণদানকারী সংস্থাগুলিও ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে নানা অফার নিয়ে হাজির। কিন্তু এর অন্য দিকও রয়েছে। ফোন কেনার পর ব্যাংকের ঋণ না মেটানোর অভিযোগও কম নয়। দেখা গিয়েছে, ১ লক্ষ টাকার কম ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপির সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। যার জেরে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ব্যাংক ও সংস্থাগুলিকে। বাড়ছে ‘ব্যাড লোন’-এর পরিমাণ। এই পরিস্থিতি ঠেকাতে এবার নতুন প্রযুক্তি আনতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই)। এক্ষেত্রে কিস্তির টাকা সময়মতো পরিশোধ না করলে দূরনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণ নিয়ে কেনা ফোন লক করে দেওয়া হবে।
সম্প্রতি আরবিআইয়ের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছেন, মোবাইল ফোন লক করার বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ ব্যাংক ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছে। এই ব্যবস্থার ভালো ও খারাপ-দুই দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফোন ব্যবহারকারীর তথ্যের গোপনীয়তার বিষয়টিও বজায় থাকে, তার দিকেও বিশেষ নজর রাখা হবে। আরবিআইয়ের মানিটারি পলিসি কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, এই পদ্ধতি চালুর ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। ফোন ব্যবহারকারী ও ব্যাংকের স্বার্থ বজায় রেখেই যদি নতুন ব্যবস্থা চালু করা যায়, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।
সূত্রের খবর, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ‘ফেয়ার প্র্যাকটিসেস কোড’-এ কিছু রদবদল করতে চলেছে আরবিআই। নতুন কোড চালু হলে ব্যাংক বা ঋণদানকারী সংস্থাগুলি ‘রিমোট লকিং ফিচার’ ব্যবহার করতে থাকবে। ঋণ নিয়ে কেনা ফোনে ওই ফিচার যুক্ত করা হবে। যদি কেউ কিস্তির টাকা না মেটায়, তাহলে ওই ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ফোন লক হয়ে যাবে। ঋণের টাকা না মেটানো পর্যন্ত ওই ফোন আর ব্যবহার করতে পারবে না ক্রেতা। তবে, এই ব্যবস্থা নিয়ে বিরুদ্ধ মতও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধু দামী ফোন নয়, নিম্নবিত্তরা মাঝারি দামের ফোন কিনতেও অনেক ক্ষেত্রে ঋণ নেন। পড়াশোনা বা চাকরির জন্য তাঁরা এই ফোনের উপর ভরসা করেন। কোনও কারণে কিস্তির টাকা মেটাতে না পারায় ফোন বন্ধ হয়ে গেলে, সমস্যায় পড়তে হবে তাঁদের।