নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সরকারি পরিষেবা পেতে নদীয়ায় ‘সেবা সেতু’ শিবিরে মানুষের ঢল। মাত্র তিন দিনেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত ১৮৩টি শিবিরে হাজির হলেন আড়াই লক্ষের কাছাকাছি মানুষ। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার সুবিধা পেতে জমা পড়ল প্রায় ৩ লক্ষ আবেদন। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে নজর কেড়েছে বার্ধক্যভাতার আবেদন। তিন দিনেই এই প্রকল্পের জন্য জমা পড়েছে ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬০৮টি আবেদন।
প্রশাসনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর পর্যন্ত নদীয়ায় ‘সেবা সেতু’র ১৮৩টি শিবিরে মোট ২ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৯৮ জন মানুষের উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন প্রকল্প ও সরকারি পরিষেবার জন্য আবেদন জমা পড়েছে ২ লক্ষ ৮৯ হাজার ২৮৬টি। অর্থাৎ শিবিরগুলিতে মানুষের উপস্থিতির পাশাপাশি পরিষেবা পাওয়ার আগ্রহও ছিল যথেষ্ট।
আবেদনের তালিকায় সবচেয়ে উপরে রয়েছে বার্ধক্যভাতা। এই প্রকল্পে ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬০৮টি আবেদন জমা পড়েছে। প্রশাসনের আধিকারিকদের মতে, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির মধ্যে বার্ধক্যভাতার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। জেলাশাসক শ্রীকান্ত পাল্লী বলেন, ‘ভাতা সংক্রান্ত যেসব আবেদন রয়েছে, সেগুলি ডিসচার্জ করা হবে। কারণ সেগুলির নির্দিষ্ট কোটা রয়েছে। আর বাকি সমস্ত প্রকল্পের আবেদন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
বার্ধক্যভাতার পরেই রয়েছে বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের বিভিন্ন পরিষেবা। এই ক্ষেত্রে ৫৪ হাজার ৩৪৪টি আবেদন জমা পড়েছে। আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় ১১ হাজার ৫২৪টি এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় ৩ হাজার ১৪১টি আবেদন হয়েছে। বিধবা ভাতা, বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা, প্রতিবন্ধী ভাতা সহ অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পেও বহু মানুষ আবেদন করেছেন।
শুধু সামাজিক সুরক্ষা নয়, কৃষি, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, বিমা, আবাসন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার মতো একাধিক ক্ষেত্রেও আবেদন জমা পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর-মুফত বিজলি যোজনা, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ঋণ সংযোগ, মৎস্য প্রকল্প, ই-শ্রম, উদ্যম রেজিস্ট্রেশন, প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা, পাট্টা, শৌচাগার নির্মাণ, খাদ্য সুরক্ষা, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-শহর এবং হকারদের ঋণ প্রকল্পেও মানুষ আবেদন করেছেন।
কৃষি ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত পরিষেবাতেও যথেষ্ট আগ্রহ দেখা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিষান, কৃষিজমির মিউটেশন, সয়েল হেলথ কার্ড, কিষান ক্রেডিট কার্ড, শ্রমিকদের বিভিন্ন প্রকল্প, ছাত্রদের ক্রেডিট কার্ড এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত পরিষেবার জন্যও আবেদন জমা পড়েছে।
শিবিরে উপস্থিতির নিরিখেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছিল উল্লেখযোগ্য ভিড়। রানাঘাট-১ ব্লকে সবচেয়ে বেশি ২৫ হাজার ৯৫৯ জনের উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। নাকাশিপাড়ায় ১৭ হাজার ৩৩৭ জন, রানাঘাট-২ ব্লকে ১৩ হাজার ৩২৪ জন এবং কৃষ্ণনগর-১ ব্লকে ১৩ হাজার ৩০৬ জন শিবিরে এসেছেন। কৃষ্ণনগর পুরসভা এলাকায় ৬ হাজার ১৭৪ জন এবং কৃষ্ণনগর-২ ব্লকে ৬ হাজার ৮২০ জনের উপস্থিতি ছিল। তেহট্ট-১-এ ৯ হাজার ৬৮৭ এবং তেহট্ট-২-এ ৬ হাজার ৯৭৩ জন শিবিরে হাজির হন।
তিন দিনের কর্মসূচি শেষ হলেও প্রায় ৩ লক্ষ আবেদনের পাহাড় এখন প্রশাসনের সামনে। তবে শিবিরে আড়াই লক্ষের বেশি মানুষের উপস্থিতি এবং বিপুল সংখ্যক আবেদনই নদিয়ায় ‘সেবা সেতু’র সাফল্যের ছবি স্পষ্ট করেছে।