ট্রাফিক আইন ভাঙলে পেনাল্টি মার্কিং, ১২ পয়েন্টেই ছ’মাস সাসপেন্ড লাইসেন্স!
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ট্রাফিক আইন ভাঙার সাজাতেও এবার বদল! চালু হতে চলেছে ‘পেনাল্টি মার্কিং’। আর্থিক জরিমানা দিয়েও তা আটকানো যাবে না। আর ট্রাফিক আইন ভঙ্গের সেই পেনাল্টি ‘১২ পয়েন্টে’ পৌঁছে গেলেই বড়ো মাশুল চোকাতে হবে চালককে। ছ’ মাস বা একবছরের জন্য সাসপেন্ড হয়ে যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স। তারপরেও যদি কেউ সতর্ক না হন, বারবার একই অপরাধ করেন তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির লাইসেন্স চিরতরে বাতিল করারও প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য পুলিশ। সূত্রের খবর, সংসদের অনুমোদন ও কেন্দ্রীয় মোটর যান আইনের সংশোধনী পাস হয়ে গেলেই দ্রুত এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়ে যাবে পশ্চিমবঙ্গে। কোন অপরাধের জন্য কত মাইনাস পয়েন্ট জুটবে, সেটা অবশ্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে বেশি পয়েন্ট কাটার জন্য কোন কোন বিষয় অগ্রাধিকার পাবে, সেসব কার্যত স্থির হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

কিন্তু কেন এই নতুন ব্যবস্থা? বর্তমান সময়ে রাজ্যে জাতীয় সড়কে গাড়ির বেপরোয়া গতি, দুর্ঘটনার সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়াকেই এর নেপথ্যে মূল কারণ হিসাবে ধরা হচ্ছে। মদ্যপ অবস্থায় স্টিয়ারিং ধরা ও মোবাইল কানে দিয়ে গাড়ি চালানোকেও সমান দায়ী করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ড্রাইভারদের বারবার সচেতন করেও দুর্ঘটনায় রাশ টানা যাচ্ছে না। ট্রাফিক দপ্তরের কর্তারা শেষপর্যন্ত বুঝতে পেরেছেন, লাইসেন্স চিরতরে বাতিল বা নূন্যতম এক বছরের বেশি সাসপেন্ড করার পথে না হাঁটলে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যাবে না। এরপরই কেন্দ্রীয় মোটর যান আইনের সংশোধনী চেয়ে নতুন সরকারের তরফে চিঠি লেখা হয় দিল্লিতে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকও বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে। বেয়াদপ চালকদের শায়েস্তা করতে কড়া আইন আনতে খসড়া প্রস্তাবও তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্য রাজ্যের কাছে এই বিষয়ে মতামত জানতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। সেখানেই লাইসেন্স ছ’মাস থেকে একবছর সাসপেন্ডের জন্য পেনাল্টি মার্কিং ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়। তাতে সব রাজ্যই সায় দিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ওই প্রস্তাবে মদ খেয়ে গাড়ি চালানো, বেপরোয়া ড্রাইভিং এবং মোবাইল কানে স্টিয়ারিং ধরাকে গুরুতর অপরাধ ধার্য করা হয়েছে। এও জানানো হয়েছে, এই সমস্ত কাজ করা চালকদের শায়েস্তা করার একমাত্র রাস্তা হল ‘পেনাল্টি মার্কিং’। এই ব্যবস্থার শেষ সীমা ‘১২ পয়েন্ট’। সেই সীমা স্পর্শ করলেই সংশ্লিষ্ট চালকের লাইসেন্স সাময়িকভাবে সাসপেন্ড হয়ে যাবে। ছোটোখাটো অপরাধের তালিকায় থাকছে হেলমেট না পরা, সিগন্যাল না মানা ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে কম পয়েন্ট ধার্য থাকবে। এই সংক্রান্ত যাবতীয় পরিসংখ্যান থাকবে রাজ্য পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কাছে। সেজন্য আলাদা একটি ফরম্যাট তৈরি করা হচ্ছে। রাস্তায় সরাসরি জরিমানা করার সময় চালকের লাইসেন্স নিয়ে সেই ফরম্যাটের ফর্ম পূরণ করবেন কর্তব্যরত অফিসার। সেখানে উল্লেখ থাকবে কোন অপরাধের জন্য কত পেনাল্টি পয়েন্ট দেওয়া হল, তার বিস্তারিত বিবরণ। এই সংক্রান্ত মেসেজও যাবে চালকের মোবাইলে। আর এএনপিআর ক্যামেরায় আইন ভাঙার ছবি ধরা পড়লে? প্রথমে সংশ্লিষ্ট গাড়িটিকে চিহ্নিত করে ডাক পড়বে মালিকের। তারপর চালক কে, তা জেনে ‘নেগেটিভ মার্কিং’য়ের পালা। সবটাই হবে অনলাইনে। ‘১২ পয়েন্ট’ স্পর্শ করলেই গাড়ির চালকের তথ্য পুলিশের সাইট থেকে পৌঁছে যাবে পরিবহণ দপ্তরে। তারপরই লাইসেন্স সাসপেন্ডের প্রক্রিয়া শুরু হবে।